বিএমইউতে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস
সূচনাতে স্তন ক্যান্সার নিরাময়ের সম্ভাবনা বেশি: বিএমইউ ভিসি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি বলেন, স্তন ক্যান্সার বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের নারীদের স্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ রোগ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধি, লজ্জা ও দ্বিধা কাটিয়ে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) ১৪তম স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস উপলক্ষে বিএমইউর ডা. মিলন হলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্তন ক্যান্সারের বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে বাংলাদেশ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরাম ও বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগ।
অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, প্রতিবছর দেশে হাজার হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত হলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এ জন্য নারীদের মধ্যে রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করতে হবে।
সংলাপে বক্তারা বলেন, দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা ও সুযোগের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ অবস্থায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যমান চিকিৎসাসম্পদের কার্যকর ব্যবহার সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আরও বেশি রোগীকে চিকিৎসাসেবার আওতায় আনা যাবে।
বিএমইউর ক্লিনিক্যাল অনকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা ফোরামের কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার সক্ষমতা ও সুযোগ সীমিত হওয়ায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে সীমিত সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার করে অধিকসংখ্যক রোগীর চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।
অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ তালুকদার বলেন, সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যে রোগ প্রতিরোধকে অগ্রাধিকার দিয়ে নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়টি উঠে আসছে, যা আশাব্যঞ্জক। তবে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি সরকারি পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে দেশের বিত্তবানদের অলাভজনক ও সেবামূলক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সংলাপে অংশ নেন জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি ও বিশিষ্ট জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. হালিদা হানুম আখতার; বিএমইউর গাইনি অনকোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাবেরা খাতুন ও বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস; সিসিপিআরের চেয়ারপারসন মোছাররত জাহান সৌরভ; জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল; ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ হুমায়ুন কবীর; হীলের প্রতিষ্ঠাতা জেবুন্নেছা এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকেরসহ অন্যরা।
সংলাপ শেষে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে শাহবাগ থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত গোলাপি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এ সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
এমআর/