চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, কুষ্টিয়ায় পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা নদীর পানির স্তর সতর্কসীমার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত সাতদিন ধরে টানা পানি বেড়েছে পদ্মা নদীতে।
এতে নদী তীরবর্তী সদর উপজেলার শাহজাহানপুর, আলাতুলি ও নারায়নপুর ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, উজিরপুর ও দুর্লভপুর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। অনেকেই আবার বাড়ি-ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।
এদিকে পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড। গতকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় নদীটির পানি ১১ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
পানি বাড়ায় প্লাবিত কৃষিজমি
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩৬২ হেক্টর জমির আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও শাকসবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আতিকুল ইসলাম বলেন, পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির মধ্যে আমন-আউশ ধান, গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির আবাদ রয়েছে।
পানি আরও বাড়লে কৃষিতে ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা গেছে, পানি ঢুকে পড়ায় সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। পানি ওঠায় এসব প্রতিষ্ঠানে আপাতত পাঠদান বন্ধ রয়েছে।
পদ্মাসহ মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও বাড়ছে
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা নদীর বিপৎসীমা ২২ দশমিক ৫ মিটার। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শুধু পদ্মা নয়, জেলার অন্য দুই বড় নদী মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও বাড়ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ শুক্রবার পর্যন্ত জেলার নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সময়ের মধ্যে জেলার তিনটি নদীর কোনোটিরই বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। তবে পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি বাড়তে পারে। এ কারণে নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বেড়ে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি
এদিকে পদ্মা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় দুই ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবৃদ্ধির ফলে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চিলমারী সীমান্তে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে এবং এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে সাপের আতঙ্ক।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, ১০ সেপ্টেম্বরের ২৪ ঘণ্টার তথ্যে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ১২ দশমিক ৯৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে, যা ৯ সেপ্টেম্বর ছিল ১২ দশমিক ৯০ মিটার। গত তিন দিনে নদীটিতে মোট ৩৭ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান নিরুৎসাহিত বা বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে চিলমারী ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টি এবং রামকৃষ্ণপুরের প্রায় সবকটি গ্রামেই এখন পানির প্রভাব। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছে এবং ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকার দুর্গত ৩০০ পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ ও সহায়তা কার্যক্রম আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জেএইচ/