২২ অগাস্ট, ২০২৬ ০৬:১১ পিএম

রোগীদের ঢাকামুখিতা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রোগীদের ঢাকামুখিতা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ঢাকা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে রোগীদের ছুটে আসাকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সাফল্য নয়, বরং বিকেন্দ্রীকরণের ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, শুধু নতুন হাসপাতাল ও ডাক্তার নিয়োগ নয়, প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে আরও এক লাখ মাঠকর্মী নিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে শিশুদের হাম নিয়ে গবেষণার ফলাফল প্রকাশ ও গবেষণা অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

‘আমি মাঝে মাঝে বলি, আমার যে মন্ত্রণালয়—আমি প্রতিমন্ত্রী, কিন্তু শুধু হাসপাতাল প্রতিমন্ত্রী নই; আমি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। আমরা প্রায়ই স্বাস্থ্যকে হাসপাতালের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলি। ভালো উদ্দেশ্য নিয়েই আমরা যেখানেই যাই, সেখানে আরও হাসপাতাল নির্মাণ এবং আরও ডাক্তার নিয়োগের কথা ভাবি। কিন্তু স্বাস্থ্য শুধু রোগের অনুপস্থিতি নয়। আমরা প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জোরদার করতে চাই।’

আজকে আপনাদের এই হাসপাতালে বাংলাদেশের এমন কোনো জেলা নেই, যেখান থেকে রোগী আসে না। এটি হাসপাতালের একটি সাফল্য, কিন্তু স্বাস্থ্যব্যবস্থার একটি ব্যর্থতা। কেন রংপুরের কোনো শিশুর অসুস্থ হলে তাকে ঢাকা পর্যন্ত আসতে হবে? ২০ কোটি মানুষের দেশে আমাদের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে।

এ কারণেই আমরা বিভাগীয় শহরগুলোতে শিশু হাসপাতাল গড়ে তুলছি। ভবিষ্যতে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে এবং প্রতিরোধমূলক ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার মাঠকর্মী কাজ করছেন। আমরা আরও এক লাখ নতুন মাঠকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছি। অর্থাৎ প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মাঠকর্মীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষ করে মা ও শিশুস্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। কারণ মা ও শিশুসেবা নিশ্চিত করা গেলে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬০ থেকে ৭৫ ভাগ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, নতুন মাঠকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা বর্তমান মাঠকর্মীদের তুলনায় আরও বিস্তৃত স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারেন। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শুধু পরামর্শ, হ্যান্ডআউট বা জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না; আরও অনেক ধরনের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবেন।

‘আধুনিক সময়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বিভিন্ন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে। আমরা মাঠকর্মীদের একটি কিট দেওয়ার পরিকল্পনা করছি, যেখানে বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস থাকবে। এর মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সময় কিছু সাধারণ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হবে’—বলেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলে, ‘প্রযুক্তির ব্যবহার করে রোগীর ইতিহাস ও ঝুঁকির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও পরামর্শ তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া যাবে। অর্থাৎ ডিজিটালি সংযুক্ত ও তথ্যভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দেওয়া হবে।

‘আমরা উপজেলা হাসপাতালগুলোকে আরও শক্তিশালী করছি এবং এগুলোর সক্ষমতা প্রায় তিন গুণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ উপজেলা হাসপাতাল ৫০ শয্যার। এগুলোকে ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায়।’

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।