ইয়েমেনে টিকার সংকট: ঝুঁকিতে ৫০ লাখ শিশু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দীর্ঘ যুদ্ধ ও রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যে ইয়েমেনে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম মারাত্মক সংকটে পড়েছে। হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় টিকা সরবরাহে জটিলতা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধার কারণে প্রায় ৫০ লাখ শিশু প্রয়োজনীয় টিকা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, সর্বশেষ টিকার চালান তারা পেয়েছে ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর। এরপর ধীরে ধীরে নিয়মিত ব্যবহৃত টিকার মজুত শেষ হয়ে যায়।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটিতে পর্যাপ্ত টিকা মজুত থাকলেও হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
টিকা সরবরাহ বন্ধ হওয়ার জন্য হুথি কর্তৃপক্ষ ইউনিসেফ ও এডেন কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছে। তাদের অভিযোগ প্রয়োজনীয় সময়ে টিকা সরবরাহ করা হয়নি।
তবে ইউনিসেফ বলছে, নিরাপত্তা ও কার্যক্রম পরিচালনার নানা জটিলতার কারণে ২০২৫ সালের শেষ দিক থেকে উত্তর ইয়েমেনে টিকা সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। একটি টিকার চালান সানায় পৌঁছানোর জন্য হুথি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলেও জানিয়েছে ইউনিসেফ।
টিকার সংকটে সানাসহ হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার অনেক পরিবার সন্তানদের টিকা দিতে সরকারি নিয়ন্ত্রিত (এডেন কর্তৃপক্ষ) এলাকায় যেতে বাধ্য হচ্ছে। এতে অনেক পরিবারকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার পাশাপাশি বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দরিদ্র পরিবারের অনেকের পক্ষেই এই যাতায়াত সম্ভব নয়।
টিকা সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরে ইয়েমেনের এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, সানা ও এডেনের কর্তৃপক্ষ যখন পরস্পরকে দায়ী করছে, তখন প্রয়োজনীয় টিকা না পেয়ে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে; এ দৃশ্য দেখা তার জন্য ‘হৃদয় ভেঙে যাওয়ার মতো’।
ইয়েমেনের স্বাস্থ্যব্যবস্থা দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংকট ও অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে এমনিতেই বিপর্যস্ত। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে দেশটির মাত্র ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ স্বাস্থ্যকেন্দ্র পুরোপুরি কার্যকর ছিল এবং পূর্ণ টিকাদানের হার ছিল ৬৩ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, টিকাদান কর্মসূচিতে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাত হলে পোলিও, হাম, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ও টিটেনাসের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। দ্রুত টিকা সরবরাহ পুনরায় চালু করে ইয়েমেনের প্রতিটি শিশুর জন্য বিনামূল্যে নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
রাজনৈতিক বিরোধ ও পারস্পরিক দোষারোপের মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়েছে ইয়েমেনের শিশুরা। অভিভাবকদের কাছে এখন সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন—রাজনৈতিক সমাধান কবে হবে তা নয়, সন্তান পরবর্তী জীবনরক্ষাকারী টিকাটি কোথা থেকে পাবে।
এইউ/