জাপানে সাত দশমিক এক মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
মেডিভয়েস রিপোর্ট: জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান দ্বীপ কিউশুর কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে।ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
সংবাদমাধ্যম এপির বরাতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, ‘মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে দেশটির কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং তীব্র গরমের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’
দেশটির সরকার জানিয়েছে, জাপান সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যৌথভাবে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পানি, খাদ্য ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
সংবাদ সংস্থা কিয়োদো নিউজ জানিয়েছে, ইয়াতসুশিরো শহরের একটি হাসপাতালে প্রায় ৪০ জন আহত চিকিৎসা নিয়েছেন। এ ছাড়া আরও প্রায় ৫০ জনকে কুমামোতো শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর কিউশুর অনেক বড় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখলেও প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য না পাওয়ায় বুধবার থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আসো কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কবে থেকে আবার বিমান চলাচল শুরু হবে, সে বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
এ ছাড়া ইয়াতসুশিরো স্টেশনে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পাশের দিকে উল্টে যায়। জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র কুমামোতো দুর্গের পাথরের দেয়ালেরও কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৬ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দুর্গটির সংস্কারকাজ এখনও চলমান।
মিফুনে টাউন হলের কর্মকর্তা হিরোকি শিমোদা বলেন, ‘এই কম্পন আমাকে ১০ বছর আগের কুমামোতো ভূমিকম্পের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। আমি খুব ভয় পেয়েছিলাম। আশপাশের বাড়িগুলোর ছাদের টালি মাটিতে ভেঙে পড়তে দেখেছি।’
জাপান আবহাওয়া সংস্থার কর্মকর্তা শিনজি কিওমোতো বাসিন্দাদের আগামী দুই থেকে তিন দিন সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এ সময়ের মধ্যে ছোট ছোট অনুকম্পন বা পরবর্তী ভূমিকম্প (আফটারশক) হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
প্রসঙ্গত, কুমামোতোতে ২০১৬ সালে ১৪ এপ্রিল প্রথমে একটি ৬ দশমিক ২ মাত্রার একটি ও ১৬ এপ্রিল ৭ দশমিক শূন্য মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছিলেন।
জেএইচ/
-
২ ঘন্টা আগে
-
১৮ জুলাই, ২০২৬
-
১১ জুলাই, ২০২৬
-
০২ জুলাই, ২০২৬
-
২৫ জুন, ২০২৬
বিবিসিকে স্থানীয় সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার
‘জীবনে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভেবেছিলাম ভবন আমার ওপর ভেঙে পড়বে’
-
০৮ জুন, ২০২৬