বিবিসিকে স্থানীয় সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার
‘জীবনে দেখা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প, ভেবেছিলাম ভবন আমার ওপর ভেঙে পড়বে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সাংবাদিক নিকোল কোলস্টার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে নিজের বাড়িতে ছিলেন, যখন তার অ্যাপার্টমেন্টটি প্রচণ্ডভাবে কাঁপতে শুরু করে। তিনি বলেন, ‘আমি দেখলাম জানালাগুলো নড়ছে এবং তখন নিজেকে রক্ষা করার জন্য আমি শুধু সামনের দরজা আর একটি পাথরের দেয়ালের মাঝে আশ্রয় নেওয়ার কথাই ভাবতে পারলাম।’
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে রাজধানী কারাকাসে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে, প্রথমটির মাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির ৭.৫।
বিভিন্ন ছবি ও ভিডিওতে ধসে পড়া ভবন এবং রাস্তায় জড়ো হওয়া মানুষ দেখা গেলেও, হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো অজানা। ধারণা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা ১০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
কোলস্টার বিবিসিকে বলেন, ‘এটি আমার জীবনে অনুভব করা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এর তীব্রতা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আমি ভেবেছিলাম ভবনটি আমার ওপর ভেঙে পড়বে।’
কোলস্টার তার সপ্তমতলার অ্যাপার্টমেন্টের সামনের দরজা আর পাথরের দেয়ালের মাঝে বেশ কিছুক্ষণ আটকে ছিলেন। এরপর তিনি প্রতিবেশীদের ডাক শুনতে পান এবং কোনো রকমে বের হয়ে আসেন।
নিকোল কোলস্টার আরও বলেন, ‘ভূমিকম্পের এক ঘণ্টা পরেও সবাই বাইরে নিরাপত্তার জন্য অপেক্ষা করছে, যদি কোনো আফটারশক হয় সেই আশংকায়।’
তিনি মধ্য কারাকাসের একটি প্রধান এলাকা পালোস গ্রান্দেসে থাকেন, যা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম।
সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় বাসিন্দাদের অনেকেই বাড়িতে ছিলেন। কারণ সেদিন ছিল ১৮২১ সালের কারাবোবোর যুদ্ধ স্মরণে একটি বিশেষ দিন। এই যুদ্ধে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে ভেনেজুয়েলার স্বাধীনতা নেতা সিমন বলিভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো থেকে আসা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তায় বহু মানুষ কাঁদছে এবং একে অপরকে আলিঙ্গন করছে।
মানুষের করুণ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে কোলস্টার বলেন, ‘এমন মানুষও আছেন যারা খুব দুঃখিত, অসহায়। কারণ তারা তাদের পোষা প্রাণীগুলোকে বাইরে বের করতে পারেননি।’
লোকজন ভবনের বেজমেন্ট থেকে তাদের গাড়িগুলো বের করার চেষ্টা করছিল। তারা আশংকা করছিল যে, একটি আফটারশক পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দিতে পারে। তিনি আরও বলেন, কাছাকাছি একটি ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল।
পালোস গ্রান্দেসের আরেক বাসিন্দা মারিয়া এলিস বিবিসিকে বলেন, ‘কম্পনের ফলে তার অ্যাপার্টমেন্টের কিছু দেয়ালে ফাটল ধরেছে। রাস্তায়বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে আছে, আমাদের বিদ্যুৎ নেই, কোনো সিগন্যাল নেই।’
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস এর আগেও বড় ধরনের ভূমিকম্পের কবলে পড়েছে। ১৯৬৭ সালে ৬.৬ মাত্রার একটি ভূমিকম্প কারাকাসে আঘাত হানে এবং ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। এ ছাড়া পালোস গ্রান্দেস এবং আলতামিরার উচ্চবিত্ত এলাকার ভবনগুলো ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু ১৯৬৭ সালের ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষদর্শী কিছু প্রবীণদের মতে, আজকের ভূমিকম্পটি তার চেয়েও ভয়াবহ ছিল।
পূর্ব কারাকাসের ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা কোরো মার্টিনেজ রয়টার্সকে বলেন, ‘খুব বিকট একটা শব্দ হলো। ঘরের জিনিসপত্র, ফ্রিজের ভেতরের জগগুলো সব পড়ে গেল। আমি জীবনে এমন কিছু দেখিনি।’
আশি বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত মারিয়া রোমেরো বলেন, ‘এই ভূমিকম্পটি ছিল ভয়াবহ, এমনকি ১৯৬৭ সালেরটির চেয়েও।’
এইউ/এমইউ/
প্যারিসে জলবায়ু সংক্রান্ত কৌশলগত সভা
জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে বাংলাদেশ
প্যারিসে জলবায়ু সংক্রান্ত কৌশলগত সভা
জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে বাংলাদেশ
প্যারিসে জলবায়ু সংক্রান্ত কৌশলগত সভা
জলবায়ু-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে বাংলাদেশ
আপিল বিভাগের রায়
প্র্যাকটিস করতে পারবেন না ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা