১৪ জুলাই, ২০২৬ ০১:১৩ পিএম

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: শিশুদের জীবন রক্ষাকারী সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ইউনিসেফ

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প: শিশুদের জীবন রক্ষাকারী সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ইউনিসেফ
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২৪ জুন, ২০২৬ তারিখে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি বড় ভূমিকম্পের ফলে হাজার হাজার শিশুর নিরাপদ আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি সেবা পৌঁছে দিচ্ছে ইউনিসেফ। সাধারণত দুর্যোগ আঘাত হানার পরের সপ্তাহগুলোতে শিশুরা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের মধ্যে থাকে। তারা তীব্র মানসিক যন্ত্রণা এবং আঘাতের ঝুঁকিতে থাকে।

ভেনেজুয়েলার শিশুরা যে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবাগুলোর উপর নির্ভরশীল, সেগুলো ভূমিকম্পের মুখে ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় ইউনিসেফ সেখানে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করেছে এবং ভেনিজুয়েলা সরকার ও অন্যান্য মানবিক সহযোগীদের সাথে সমন্বয় করে শিশু ও তাদের পরিবারের কাছে স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি সহায়তা, পানি ও স্যানিটেশন এবং মনস্তাত্ত্বিক ও সুরক্ষা পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে

৭.৫ এবং ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলা কেঁপে ওঠে, যাকে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভূকম্পন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে এবং বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাস এবং আরাগুয়া সিটি, কারাবোবো, ফ্যালকন, লা গুয়াইরা, মিরান্ডা রাজ্য ও তার আশেপাশের বাসিন্দারা। বাড়িঘর, হাসপাতাল এবং স্কুল ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। পানি ও বিদ্যুতের অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা অচল এবং পরিবহন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় উদ্ধার ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের কাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

শিশুরা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ

ভূমিকম্পের পর শিশুদের জরুরি ও বিশেষায়িত যত্নের প্রয়োজন হয়। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা ও দিনগুলোতে শিশুরা তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার বা বাড়ি থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে – ফলে তারা গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা ও যত্ন থেকে বঞ্চিত হয়। শিশুরা গুরুতর আঘাতের ঝুঁকিতেও থাকে, কারণ ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত বিপদ ও ঝুঁকি – যেমন উপর থেকে কোনো বস্তু পড়া, ভাঙা কাচ বা সম্ভাব্য আগুন সম্পর্কে তারা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে কম সচেতন।

তীব্র মানসিক যন্ত্রণা শিশুদের ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। যদিও পরবর্তী মাসখানেক অনেকে হয়তো ঠিকঠাকই থাকবে বলে মনে হতে পারে, কিন্তু আরো কিছু সময় যাওয়ার পর মানসিক আঘাতের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেতে পারে। এ কারণে জরুরি উদ্ধার প্রচেষ্টার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা।

শিশুদের এখন যা প্রয়োজন

সবচেয়ে জরুরিভাবে, শিশুদের চিকিৎসা সেবা (মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা সহ), নিরাপদ পানি, সুরক্ষা পরিষেবা প্রয়োজন এবং আশ্রয় প্রয়োজন।  প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াদের জন্য পরিবার খুঁজে বের করা এবং বন্ধুদের সাথে একত্রিত হতে ও নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক পরিবেশের অনুভূতি ফিরে পেতে তাদের অস্থায়ী শিক্ষাস্থল প্রয়োজন।

সাহায্যের জন্য ইউনিসেফ যা করছে

ইউনিসেফের দলগুলো মানবিক অংশীদারদের পাশাপাশি শিশু এবং তাদের পরিবারকে অত্যাবশ্যকীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মাঠে কাজ করছে। পানামায় অবস্থিত ইউনিসেফের আঞ্চলিক গুদাম থেকে চিকিৎসা সামগ্রী, পানি এবং স্যানিটেশন সামগ্রীর একটি ও কোপেনহেগেনে অবস্থিত ইউনিসেফের বৈশ্বিক সরবরাহ কেন্দ্র থেকে আরেকটি চালানটি আসে।

যাতে ছিল জরুরি স্বাস্থ্য কিট, পানি পরিশোধন ও সংরক্ষণের সরঞ্জাম, হুইলচেয়ার, শিশুবান্ধব স্থানের জন্য তাঁবু এবং বিনোদনমূলক সামগ্রী। আশা করা হচ্ছে, এই দুটি চালান একত্রে ১ লক্ষেরও বেশি মানুষকে সহায়তা করবে।

ইউনিসেফ সূত্র জানায় তারা এই জরুরি কার্যক্রম আরও জোরদার করবে। সেই সাথে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী প্রেরণ এবং এই অঞ্চলে অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করবে।

এইউ/ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও
একদিনেই অবস্থান বদল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

করোনা ছড়ায় উপসর্গহীন ব্যক্তিও