স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়ন কমিটির মেয়াদ বাড়ল আরও ৬০ কর্মদিবস
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর খসড়া প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটির মেয়াদ আরও ৬০ কর্মদিবস বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে কাজের পরিধি বাড়ানোয় কমিটিতে নতুন করে দুই সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। ফলে আইনটির খসড়া প্রণয়নের সময়সীমা আগামী ১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ল।
গত ১ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মিনি সভাকক্ষে কমিটির সভাপতি ও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (হাসপাতাল অনুবিভাগ) এ এন এম মঈনুল ইসলামের সভাপতিত্বে দ্বিতীয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০ কর্মদিবসের মধ্যে খসড়া প্রস্তুতের লক্ষ্য থাকলেও নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও তা সম্পন্ন না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভার কার্যবিবরণী অনুযায়ী, ১১ জুন গঠিত সাত সদস্যের কমিটিতে নতুন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামকে সদস্য করা হয়েছে।
সভায় স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সেবাগ্রহীতাদের সুরক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্মসচিব (সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা) ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান জানান, স্বাস্থ্যখাত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনকে ‘স্বাস্থ্যসেবা কর্মী ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’—এই দুই ভাগে ভাগ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রথমটির কাজ এগোলেও মতভিন্নতার কারণে রোগী সুরক্ষা-সংক্রান্ত অংশের অগ্রগতি আশানুরূপ হয়নি।
অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, আইনটি যৌক্তিক, ত্রুটিমুক্ত ও বাস্তবসম্মত হওয়া জরুরি। এজন্য প্রয়োজন হলে সময় নিয়ে আইন প্রণয়ন করা উচিত এবং এর আওতায় সংশ্লিষ্ট সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়া না করে চিকিৎসক, নার্স, অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও হাসপাতালের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, পৃথক দুটি আইনের পরিবর্তে একটি সমন্বিত আইন হলে তা অধিক কার্যকর হবে এবং সরকারের ব্যয়ও কমবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের খসড়া অধ্যাদেশে মূলত শাস্তির বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। কিন্তু একটি পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল পরিচালনা, দাতব্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, লাইসেন্স প্রদান, ফি নির্ধারণ, ব্যক্তিগত চেম্বার, পেশাগত নৈতিকতা এবং হাসপাতালের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, নতুন আইন কার্যকর হলে ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’ বাতিল হবে। সেক্ষেত্রে এর পরিবর্তে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে।
সভায় কমিটির সভাপতি এ এন এম মঈনুল ইসলাম বলেন, আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণকারী এবং স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
এর আগে গত ১১ জুন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে ২০ কর্মদিবসের মধ্যে আইনের খসড়া প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়। গত ৮ জুন স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ইন্টার্ন ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভার আলোকে এই কমিটি গঠন করা হয়।
এমআর/