খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাযার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৪ জুলাই) সকালে তেহরানে ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় (মসজিদ কমপ্লেক্স) এ অনুষ্ঠান শুরু হয়।
ইরানের রাষ্ট্রাীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ লিখেছে, মুসাল্লার দরজা খোলার কয়েক ঘণ্টা আগেই সেখানে এসে পৌঁছান ইরানের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক মানুষ। উপস্থিত মানুষের ভিড় এতই বেশি ছিল যে, ফজরের আজানের সময়ই দরজা খুলে দেওয়া হয়, যাতে মানুষ মসজিদ কমপ্লেক্সের মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারে।
শ্রদ্ধা জানাতে আসা ইরানিদের হাতে দেখা গেছে দেশটির পতাকা, ‘বদ্ধ মুষ্টির’ প্রতীক, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং বর্তমান মুজতবা খামেনির ছবি। তারা একদিকে প্রয়াত নেতাকে বিদায় জানাচ্ছেন, অন্যদিকে বর্তমান নেতার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করছেন।
খামেনিকে শেষ বিদায়ে সমবেত হয়েছেন বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও
তাসনিম নিউজ লিখেছে, এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) তেহরানে বিদেশি প্রতিনিধি দলের জন্য শ্রদ্ধা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। ইরানে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যতম বৃহত্তম এ সমাবেশে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, আমেরিকা এবং প্রধান আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তাদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্ট স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা এবং ধর্মীয় সংস্থা ও প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশের পক্ষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের শ্রদ্ধা নিবেদন
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তিনি শুক্রবার (৩ জুলাই) ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন।
খামেনির জানাযায় জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা
আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে পৌছেছেন জামায়াতে ইসলামীর ১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপির নেতৃত্বে এ প্রতিনিধিদলের অপর সদস্যরা হলেন- কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রাজশাহী মহানগরী আমির ড. মো. কেরামত আলী এমপি, মো. নুরুল আমীন এমপি, পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এমপি, ডা. এসএম খালিদুজ্জামান এবং এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার শুরুতে নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি। ব্যাপক হামলার মধ্যে ইরানও পশ্চিম এশিয়ার আরবদেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। মার্কিন ঘাঁটি থাকার কারণে ওই দেশগুলোকে হামলার ‘বৈধ টার্গেট’ হিসাবে বর্ণনা করে তেহরান।
‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে’ স্লোগান ও বদ্ধ মুষ্টির প্রতীক নিয়ে ইমাম খোমেনি মুসাল্লায় দুই দিনের বিদায় অনুষ্ঠান
দুটি দেশের (ইরাক ও ইরান) পাঁচটি শহরজুড়ে ছয় দিন ধরে এই শোকানুষ্ঠান চলবে। এর মধ্যে সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে হবে প্রধান শোকযাত্রা। এ সময় খামেনির কফিনের পাশাপাশি একই হামলায় নিহত তার মেয়ে, জামাতা ও পুত্রবধূ (বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার স্ত্রী) ও নাতনির মরদেহ বহন করা হবে।
শোকযাত্রার পর প্রয়াত নেতার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতৃত্বের প্রধান কেন্দ্র ও ধর্মীয় শিক্ষানগরী কোমে, যেখানে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জানাজা ও শোক অনুষ্ঠান হবে।
এরপর বুধবার (৮ জুলাই) খামেনির কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে। সেখানকার নাজাফ ও কারবালা শহরে শোকযাত্রা ও জানাজা হবে। ইরানের সমমনা ও মিত্র শিয়া গোষ্ঠীগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন সেখানে।
এরপর বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ইরানের মাশহাদ শহরে আরেকটি শোভাযাত্রার পর হযরত ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে।
এসব আয়োজনে যত বেশি সম্ভব মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। স্কুল, মসজিদ ও স্পোর্টস হলগুলোকে শোকগ্রস্ত মানুষদের আবাসন হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে তেহরানসহ অন্যান্য শহরের আকাশসীমায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল নতুন কোনও হামলা চালালে কঠোর জবাবের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
জেএইচ/
সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে
সরকারি হাসপাতালে ১৭ আগস্টের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও বায়োমেট্রিক হাজিরা নিশ্চিতের নির্দেশ