বাজেট পাসের পর এক লাখের হার্টের স্টেন্ট মিলবে অর্ধেকে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাজেট পাসের পর এক লাখ টাকার হার্টের স্টেন্টের চিকিৎসা অর্ধেক দামে মিলবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ সােমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ডায়ালিসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভাল্ব, পেসমেকার, অক্সিজেন এটারেটরস, পেরিফিরাল ভাস্কুলার স্টেন্ট, রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এবলেশন ফাইবার, চোখের লেন্স এবং ক্যান্সার চিকিৎসার কাঁচামালের ওপর থেকে ভ্যাট ও ট্যাক্স যতটুকু সম্ভব সর্বোচ্চ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের সুফল বাজেট পাস হওয়ার সাথে সাথেই একজন মানুষের হার্টে স্টেন্ট করার খরচ যদি এখন এক লক্ষ টাকা হয়ে থাকে, তবে তা পঞ্চাশ শতাংশে নেমে আসবে বলে জানান তিনি।
সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতি আসলেই অত্যন্ত নাজুক। বিরোধীদলীয় নেতা একটু আগে উনার বক্তব্যে বলেছেন। আমি উনার সাথে ‘একশত এক ভাগ’ একমত। আমরা এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যেখানে সহজে প্রত্যেক নাগরিকের ন্যূনতম চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।’
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, গতকালও সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের বিশাল সংখ্যক মানুষ পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে তার চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে একদম নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতি দূর করতে বাজেট উপস্থাপনের দিন এবং পরবর্তীতে অর্থমন্ত্রীর সাথে আলোচনার পর একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাজেটের মূল লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যেহেতু রাজনীতি করি, আমাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে শ্রেণী-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের মানুষকে যতটুকু সম্ভব স্বস্তি দেওয়া। আর চিকিৎসা খাতের এই ছাড়ের মাধ্যমেই তার প্রতিফলন ঘটেছে।’
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিরোধীদলীয় নেতার সাথে চিকিৎসার অভিজ্ঞতা অর্জনে পাঁচ বছর আগে লন্ডনে আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের মতো একটি ধনী দেশও মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে নীতিগতভাবে হিমশিম খাচ্ছে। আর সে কারণেই তারা এখন শুধু ইউকেতেই নয়, পুরো ইউরোপে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’
চিকিৎসায় ওষুধের চেয়ে প্রতিরোধে জোর দিয়ে তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোর সরকার সেখানে চিকিৎসার সব খরচ বহন করে। তারা হিসাব করে দেখেছে, একজন মানুষ অসুস্থ হলে ডাক্তার, নার্স ও হাসপাতালের বেড মিলে যে বিপুল খরচ হয়, তার চেয়ে মানুষকে আগে থেকে সচেতন করলে খরচ অনেক কমে যায়। তাই তারা এখন ‘প্রিভেনশন’ বা রোগ প্রতিরোধের ওপর জোর দিচ্ছে।
দেশের বিদ্যমান হাসপাতালগুলোর অবস্থা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের হাসপাতালগুলোতে বেড না পেয়ে মাটিতে শুয়ে চিকিৎসা নেয় প্রায় চল্লিশ লক্ষ মানুষ। বিশাল জনসংখ্যার এই দেশে রাষ্ট্রের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ কমাতে আমরাও এখন ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিওর’ (রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ শ্রেয়) এই পলিসি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। এর অংশ হিসেবে সমগ্র বাংলাদেশে এক লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের সচেতন করবেন। কারণ মা-বোনেররাই পরিবারের খাদ্য ও হাইজিনের খেয়াল রাখেন। কোন খাবার খেলে হার্ট, কিডনি বা প্রেসারের সমস্যা থেকে দূরে থাকা যায়, তা তারা বুঝিয়ে বলবেন। এর ফলে রোগীর সংখ্যা কমলে হাসপাতালগুলোতে আরও উন্নত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেএইচ/