দাবি আদায়ে শেবাচিম শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এফসিপিএস প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং ইন্টার্ন ও প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের বেতন বৃদ্ধিসহ ছয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ক্লাস, ওয়ার্ড ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের (শেবাচিম) শিক্ষার্থীরা।
আজ শনিবার (৬ জুন) কলেজের ৫৪, ৫৫, ৫৬ ও ৫৭ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
এতে শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অতন্দ্র প্রহরী ও সেবার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও, বাংলাদেশের সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ আজ চরম বৈষম্য, অবহেলা আর নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। চিকিৎসকদের মেধা, শ্রম আর আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিনিয়ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া এই পরিস্থিতিতে নিজেদের পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দেশের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আজ আমরা রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছি। জনস্বার্থ ও চিকিৎসকদের যৌক্তিক অধিকারের পক্ষে আমাদের সুনির্দিষ্ট ছয় দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি।’
শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক গত ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা, চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের আওতায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন করা, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা এবং বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসকদের বেতন ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করাসহ বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামো তৈরি করা।
এছাড়া, বিএমডিসি-২০২৩ অধ্যাদেশের খসড়া আইনে রূপান্তর করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সকল ভর্তি পরীক্ষার ফি সর্বোচ্চ ১০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এমআর/