নবীন বিজ্ঞানীদের উৎসাহ জোগাতে আইসিডিডিআর,বির অ্যাওয়ার্ড চালু
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নবীন বিজ্ঞানীদের কাজের স্বীকৃতি ও উৎসাহ জোগাতে ‘ক্লেমেন্স-স্ট্যানটন’ নামে নতুন অ্যাওয়ার্ড চালু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)।
সোমবার (১৮ মে) আইসিডিডিআর,বির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, যারা কখনও আইসিডিডিআর,বিতে কাজ করেছেন, তাদের অনেকের চিন্তায়, কথাবার্তায় এবং বিভিন্নভাবে আইসিডিডিআর,বির প্রভাব থেকে যায়। বছরের পর বছর ধরে সাবেক সহকর্মীরা সময়, অভিজ্ঞতা ও সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন, কোনো বাধ্যবাধকতা থেকে নয়, বরং এমন একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর আত্মিক সংযোগ থেকে, যা তাদের গড়ে তুলেছে। নতুন শুরু হওয়া ক্লেমেন্স-স্ট্যান্টন অ্যাওয়ার্ড সেই চেতনাকেই সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি প্রয়াস।
আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত মৌলিক গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ প্রতি বছর একজন নারী ও একজন পুরুষ তরুণ বিজ্ঞানীকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। পুরস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন ৩৫ বছরের কম বয়সী অথবা তার নিচের গবেষকরা, যাঁরা সংশ্লিষ্ট গবেষণার প্রথম উদ্ভাবক। স্মারক ফলকের পাশাপাশি প্রত্যেক বিজয়ী পাবেন অর্থ পুরস্কারও।
ড. জন ডি ক্লেমেন্স এবং ড. বনিতা স্ট্যানটনের (১৯৫১-২০২২) সম্মানে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়, যাদের পেশাগত যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ শুরু হয়েছিল আইসিডিডিআর,বি থেকে। অধ্যাপক ক্লেমেন্স প্রথম ১৯৮০ এর দশকে আইসিডিডিআর,বিতে কাজ শুরু করেন এবং পরে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় আট বছর প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. স্ট্যানটনও ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্তআইসিডিডিআর,বিতে কাজ করেছেন। তিনি মাঠপর্যায়ে গবেষণা পরিচালনা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। এখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার পেশাগত দৃষ্টিভঙ্গি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্যসেবা, সমতা ও মানবিক যত্নের প্রতি আজীবন অঙ্গীকারকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে, যা তার পরবর্তী কাজ প্রমাণ করে। যেখানে বিজ্ঞান মানুষের বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, এমন একটি পরিবেশে প্রাথমিক অভিজ্ঞতা পেশাগত জীবনে অনেক বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আইসিডিডিআর,বির মতে, এই পুরস্কার এমন একটি সংস্কৃতিকে সম্মান জানায়, যেখানে রয়েছে গভীর অনুসন্ধান, বৈজ্ঞানিক সততা এবং স্বাস্থ্যসেবায় সমতার প্রতি অঙ্গীকার—যা দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বহন করে আসছে।
বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাওয়ার্ড সম্পর্কে ড. জন ডি ক্লেমেন্স বলেন, ‘আইসিডিডিআর,বি আমার কাছে সবসময়ই একটি কর্মস্থলের চেয়েও বেশি কিছু। কর্মজীবনের শুরুতেই আমি এখানে দেখেছি, কীভাবে কঠোর ও মানসম্পন্ন বিজ্ঞান বৃহৎ পরিসরে মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। ক্লেমেন্স-স্ট্যানটন অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে আমরা আজকের তরুণ বিজ্ঞানীদের সেই সম্ভাবনাকে স্বীকৃতি দিতে চাই এবং তাদের এমন গবেষণায় উৎসাহিত করতে চাই, যা বৈজ্ঞানিকভাবে শক্তিশালী এবং মানবিক প্রভাবেও গভীর। এমন এক সময়ে, যখন বৈশ্বিক স্বাস্থ্য গবেষণা নানা সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি, তখন মানুষের মধ্যে বিনিয়োগ করাই সবচেয়ে অর্থবহ অবদানগুলোর একটি।’
আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমীদ আহমেদ বলেন, এই উদ্যোগ আইসিডিডিআর,বি পরিবারের স্থায়ী শক্তির প্রতিফলন। আমাদের সাবেক সহকর্মীরা এখনও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং চিন্তাশীল ও কার্যকর উপায়ে অবদান রেখে চলেছেন। ক্লেমেন্স-স্ট্যানটন অ্যাওয়ার্ড আমাদের তরুণ বিজ্ঞানীদের উৎকর্ষকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি মনে করিয়ে দিবে যে, এই প্রতিষ্ঠান প্রজন্মের পর প্রজন্মের সম্মিলিত অঙ্গীকারের ওপর নির্ভরশীল।’
এই পুরস্কারের উদ্দেশ্য তরুণ বিজ্ঞানীদের উৎসাহ দেওয়া, ভালো ও মানবকল্যাণমূলক গবেষণাকে স্বীকৃতি দেওয়া, সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের সংযোগ বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা।
এমআর/