১৬ মে, ২০২৬ ০৯:০১ পিএম
বাজারে ডা. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার ‘নাজুক প্রাণের যত্নগাঁথা’

এক মলাটে নবজাতকের প্রয়োজনীয় যত্ন

এক মলাটে নবজাতকের প্রয়োজনীয় যত্ন
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নবজাতকের যত্ন নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমাতে এবং সহজ ভাষায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিতে প্রকাশিত হয়েছে নবজাতক বিশেষজ্ঞ ডা. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার শিশুস্বাস্থ্যবিষয়ক বই ‘নাজুক প্রাণের যত্নগাঁথা’। ৪৮ পৃষ্ঠার এই বইয়ে নবজাতকের বিপদ চিহ্ন, বুকের দুধ, টিকা, ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার, দৈনন্দিন পরিচর্যা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার প্রস্তুতির চেকলিস্টসহ প্রয়োজনীয় নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। লেখকের ভাষায়, এটি একবার পড়ে রেখে দেওয়ার মতো বই নয়, বরং প্রয়োজনমতো বারবার উল্টে দেখার মতো একটি প্রায়োগিক দিক নির্দেশনা।

স্বপ্নের উন্মোচন 

ডা. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, অনেক দিন পর উন্মোচিত স্বপ্ন—‘নাজুক প্রাণের যত্নগাঁথা।’ নবজাতকের যত্নের ব্যাপারে আসলে মায়েরা খুবই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকেন, কলিজার টুকরাকে সুস্থ রাখতে ও তাদের সুন্দর বিকাশে কি করণীয়—এ নিয়ে আরও বছর খানেক আগে একটি বই লেখার পরিকল্পনা নিই। ওই বছর দাঁড় করানো বইটি ছিল অনেক মোটা, প্রায় ১৭০-১৮০ পৃষ্ঠার। পরে চিন্তা করলাম, এতো বড় বই আসলে মায়েরা পড়বেন না, সময়ও পাবেন না। এজন্য খুব সংক্ষেপে মাত্র ৪৮ পৃষ্ঠায় এই বইটা নিয়ে আসা। 

প্রত্যেক নবজাতকের বাবা-মা’র বইটা অবশ্যই পড়া ও সংগ্রহে রাখা উচিত বলে মনে করেন এই নবজাতক বিশেষজ্ঞ। এজন্যই লেখার পর বইটি খুব সহজ করে বিন্যাস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম পৃষ্ঠা খুললে বুঝতে পারবেন শিশুর কোনো বিপদ চিহ্ন আছে কিনা।

ডা. হাবিব বলেন, ‘প্রথমেই নবজাতকের বিপদ চিহ্নগুলো একটি ছবির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে, যাতে স্বাস্থ্য সংকটে পড়লে পৃষ্ঠা উল্টানোর সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায়। তার পর সচরাচর যা যা থাকে, ওপেনিং, এর পর সূচিপত্র, ভূমিকা রয়েছে।’

বইয়ে যেসব বিষয় জায়গা পেয়েছে

বইয়ে সূচিপত্রে ভূমিকার পর যেসব বিষয় জায়গা পেয়েছে, সেগুলো হলো—শিশুর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো, একটি সুস্থ নবজাতকের বৈশিষ্ট্য, নবজাতকের বিপদ চিহ্নগুলো কি কি?, বাড়িতে প্রথম দিন প্রথম মাস, ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার: ভালোবাসার প্রাকৃতিক ইনকিউবেটর, বুকের দুধ: পুষ্টি, প্রতিরোধ ও মমতার মিশেল, জন্ম থেকে ২৪ মাস পর্যন্ত শিশুর বৃদ্ধি সূচক, শিশুর দৈনন্দিন যত্ন, নবজাতকের কিছু সাধারণ সমস্যা; বাসায় কি করবেন?, টিকা: আপনার সন্তানের ভবিষ্যত সুরক্ষা ঢাল, নবজাতকের স্ক্রিনিং: ভবিষ্যত সুরক্ষার নীরব ভিত্তি, শিশুর বিকাশের প্রথম দুই বছরের মাইল স্টোন, প্রাথমিক উদ্দীপনা থেরাপি, নবজাতক পালনে কিছু ভুল ধারণা, কত দিন পর পর চিকিৎসক দেখাবেন, শিশুর তাপমাত্রা মাপার সঠিক পদ্ধতি, সম্মানিতা মা, আপনার নিজের যত্ন নিন ও নবজাতককে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার সময় প্রস্তুতির চেক লিস্ট।

লেখক বলেন, এসব অধ্যায়ে হাসপাতালে প্রসব পরবর্তী সময়ে বাড়িতে নেওয়ার পর কীভাবে শিশুর পরিচর্যা করতে হবে, এ ক্ষেত্রে কিছু শিশু আছে অপরিণত, ওজন কম—ওদেরকে কীভাবে ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার দিতে হবে এসব বিষয় আলোচনা করা হয়েছে।

‘এ ছাড়া বুকের দুধ কেন দিতে হবে, দিলে শিশু স্বাস্থ্যের জন্য কী লাভ, কীভাবে দিতে হবে, দুধ না পেলে কী করতে হবে, শিশুর দৈনন্দিন পরিচর্যা—এসব বিষয় এই বইয়ে আছে। সেই সঙ্গে শিশুর কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়, টিকা কীভাবে দেবে—এ ব্যাপারে সুন্দর আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি নবজাতক লালন-পালনে কিছু ভুল ধারণা আছে, সেগুলো থেকে বেঁচে থাকার বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়েছে অত্যন্ত সহজ করে—যোগ করেন তিনি। 

বইয়ের শুরুর দিকে শিশুর বিষয়ে উল্লেখ করার মতো বিষয়, রোগবালাই—এসব বিষয় নোট রাখার জায়গা আছে। সেই সঙ্গে কাছাকাছি শিশু বিশেষজ্ঞ, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ রাখা, ফলোআপ ঠিক মতো হচ্ছে কিনা, কোন তারিখে চিকিৎসক দেখাবেন—এসব বিষয় খুব সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। 

প্রতি বিষয় ১-২ পৃষ্ঠায় সমাপ্ত

সহজ ও সুখপাঠ্য করার স্বার্থে বইয়ে ১-২ পৃষ্ঠার মধ্যে একেকটি বিষয়ের আলোচনা সমাপ্তি টানা হয়েছে জানিয়ে ডা. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, বইটি পড়তে অত বেশি সময় নিয়ে বসতে হবে না। তাছাড়া কোনো উপন্যাস যেভাবে শুরু থেকে ধারাবাহিকভাবে পড়তে হবে, তা অনুসরণ করতে হবে না; বরং যেটা আপনার জন্য দরকারি, সেই চ্যাপ্টার পড়লেই বুঝতে পারবেন।

শেষ দিকে তুলে ধরা হয়েছে, এক শিশুকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় কি কি জিনিস সঙ্গে নিতে হয়, তার একটি চেক লিস্ট। 

এই চেক লিস্ট অনুসরণের উপকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একদিন আমার চেম্বারে একটি বাবুকে নিয়ে মা এলেন। শিশুটা ঘেমে গেছে। জিজ্ঞাসা করলাম, অতিরিক্ত পোশাক আছে কিনা! দেখা গেল ওরা নিয়ে আসেননি। মুশকিল! এজন্য চেক লিস্ট ধরে ধরে যদি গোছান, আর প্রতিদিন আপনার শিশুর যত্ন কীভাবে নিচ্ছেন, এই ধরনের আরেকটি চেক লিস্ট করা আছে। অর্থাৎ প্রতিদিন বইয়ের পেছনের পৃষ্ঠাটা চেক করলেই বুঝে যাবেন, তার রুটিন চেকআপ হচ্ছে কিনা!’ 

তিনি বলেন, ‘সুতরাং শিশুর পরিচর্যায় এই সতর্কতা খুব দরকারি। আমি অনুভব করি, আমাদের অভিভাবকরা যত সচেতন হবেন, শিশুরা তত ভালো থাকবে।’ 

সামনে এ ধরনের জীবনঘনিষ্ট আরও বই নিয়ে আসার বার্তা দিয়ে ডা. হাবিব বলেন, ‘এই বইটা শুরু, এমন বই আরও আসবে ইনশাল্লাহ। অনেকগুলো পান্ডুলিপি প্রস্তুত আছে। আল্লাহ তাওফিক দিন, সময় দিন, সামর্থ্য দিন—মানুষের জন্য ভালো করে কাজ করার।’

বইটি একবার পড়ে রেখে দেওয়ার মতো না। বারবার আপনাকে উল্টাতে হবে। এটা ম্যানুয়াল ফর দা মাদারস, ফর গার্ডিয়ান্স। 

বইয়ের সওয়াব মা-বাবার জন্য উৎসর্গ করেছেন এই লেখক।

প্রাপ্তিস্থান

কুমিল্লায় কান্দিরপাড় এলাকায় রফিক গ্রন্থাগারে (0171131 3674), ঢাকায় বায়ান্ন মেডিকেল মার্টে (014 0443 2537) বইটি পাওয়া যাবে। এ ছাড়াও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ও মডার্ণে লেখকের চেম্বার থেকে বইটি সংগ্রহ করা যাবে।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত