১৩ মে, ২০২৬ ১১:৫০ এএম

জুন থেকে দুই ধাপে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জুন থেকে দুই ধাপে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চীনের দূতাবাস ও সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: আগামী জুন মাস থেকে দুই ধাপে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ বুধবার (১৩ মে) সকালে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চীনের দূতাবাস ও চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের তিন লাখ ৮০ হাজার ডোজ পোলিও ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, জুন মাস থেকে দুই ধাপে ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেয়া হবে। এই মুহূর্তে ভিটামিন এ ক্যাপসুলের ঘাটতি থাকলেও জুন নাগাদ তা পূরণ হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৯৮ শতাংশ শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে, বাকি ২ শতাংশ শিশুকেও টিকার আওতায় আনার চেষ্টা করছে সরকার।

হাম প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে অনেক ভুল তথ্য আসছে জানিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের কাছে পর্যাপ্ত হামের টিকা।

সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত আমলে হামের টিকা কেন দেয়া হয়নি, তা নিয়ে তদন্ত করবে সরকার। তবে তদন্তের বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

এর আগে সকালে সরকারের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) চলমান কার্যক্রমকে আরও বেশি বেগবান, গতিশীল ও কার্যকর করতে অনুষ্ঠানিকভাবে পোলিও টিকা উৎপাদনকারী চীনা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক ফাইন্ডেশন।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লি নিং উপস্থিত ছিলেন। 

চীনা টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাকের তৈরি অনুদানকৃত মোট ৭৬,৬১৬ ভায়াল (৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ) পোলিও (Poliomyelitis Vaccine, Inactivated Sabin Strains (sIPV) টিকার চালান এরই মধ্যে ইপিআই সংরক্ষণাগারে পৌছে দেওয়া হয়েছে। যেখান থেকে পরবতীতে চাহিদা অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদেরকে প্রদান করা হবে। সিনোভ্যাকের তৈরি পোলিও (পোলিওমাইলাইটিস ভ্যাকসিন, ভেরো সেল, ইনঅ্যাক্টিভেটেড সেভিন স্ট্রেইন - sIPV)- টিকা ২০২২ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জন করেছে। বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সিনোভ্যাক ইতোমধ্যে জাতিসংঘ (UN) সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় এই একই ভ্যাকসিন সফলভাবে সরবরাহ করে আসছে।

বাংলাদেশের এই দঃসময়ে সিনোভ্যাক ফাউন্ডেশনের টিকা অনুদানের জন্য চীনের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক বন্ধু হিসেবে চীন বাংলাদেশের পাশে রয়েছে সেটা আবারও প্রমাণ করেছে দেশটি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন,  হামের টিকার ব্যবস্থা হলেও এখন সামনে ডেঙ্গু, পোলিও ও হান্টাসহ অনেক রোগ চোখ রাঙাচ্ছে। এগুলো মোকাবিলা করা এখন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। তবে পোলিও ও যক্ষাসহ যেসব রোগের টিকার প্রয়োজন তা ঘাটতি নেই। এগুলোর টিকা কার্যক্রম চলছে। 

এখন পর্যন্ত ৬ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত প্রায় সব শিশুকে হামের টিকা দেয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা বাকি আছে তাদের শিগগিরই টিকা দেয়া।

তিনি জানান, শীগ্রই ‘ভিটামিন-এ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন’ শুরু হবে। সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গুর জন্য প্রস্তুতি হিসেবে বিভিন্ন ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে এই সংখ্যা বাড়ানো হবে।

চীনা দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর লি শাওপেং বক্তব্য রাখেন। 

সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের চিফ বিজনেস ডাইরেক্টর লি নিং বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা করতে পেরে সিনোভ্যাক অত্যন্ত গর্বিত। আজ আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সিনোভ্যাকের তৈরি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রি-কোয়ালিফিকেশন যোগ্যতা অর্জনকৃত তিন লাখ ৮৩ হাজার ৮৪ ডোজ পোলিও (sIPV) ভ্যাকসিন অনুদান প্রদান করতে পেরে আমরা আনন্দিত।’

পোলিও শিশুদের জন্য একটি গুরুতর সংক্রামক রোগ এবং টিকাদানকে পোলিও প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা বলে উল্লেখ করেন তিনি। লী নিং বলেন, ‘আমরা আশা করি, অনুদানের এই টিকা বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং দেশের পোলিও নির্মূল কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। বাংলাদেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ভবিষ্যতেও সিনোভ্যাক বাংলাদেশের পাশে থেকে চীন-বাংলাদেশের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকতাবৃন্দ, চীনা দূতাবাসের সেকেন্ড সেক্রেটারি হোআং মৌচং, সিনোভ্যাক বায়োটেক লিমিটেডের হেড অব ইন্টারন্যাশনাল রেগুলেটরি ওয়াং পোং, সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই), ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।