১১ মে, ২০২৬ ১২:৪৫ পিএম

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়ায়: হাইকোর্ট

ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বাড়ায়: হাইকোর্ট
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গর্ভের সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধ করতে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রায়ের ফলে এখন থেকে অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না।

আজ সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

একই সঙ্গে এটি সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারেরও পরিপন্থি। আদালতের মতে, এ ধরনের কার্যক্রম নারীর মর্যাদা, সমতা ও বেঁচে থাকার অধিকারের বিরুদ্ধে যায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা অনুপস্থিত ছিল। শুধু গাইডলাইন প্রণয়ন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না; বরং বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এ ধরনের অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে।

রায়ে আরও বলা হয়, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য সৃষ্টি হয়, যা সংবিধানের ১৮, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদ ও নারী অধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও এটি সাংঘর্ষিক বলে মত দেন বিচারকরা।

আদালত উল্লেখ করেন, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও প্রকাশ কঠোর আইনগত নিয়ন্ত্রণের আওতায় রয়েছে। বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আদালত।

এ ছাড়া আদালত এ নির্দেশনাকে ‘কনটিনিউয়াস ম্যান্ডামাস’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে নির্দেশনার বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি আদালত নিজেই তদারকি করতে পারবেন।

টিআই/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক