হাম সংক্রমণ নিয়ে এনএইচএর উদ্বেগ, প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে ক্রমবর্ধমান হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল হেলথ এলায়েন্স (এনএইচএ)। একই সঙ্গে সংক্রমণ রোধে জরুরি ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
এনএইচএর নির্বাহী কমিটির (ইসি) এক সভায় এ আহ্বান জানানো হয় বলে শনিবার (৯ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. আব্দুস সালাম স্বাক্ষরিত এক প্রেস রিলিজে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি, টিকাদানে ঘাটতি, জনসচেতনতার অভাব এবং শিশুস্বাস্থ্যের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
এনএইচএ নেতৃবৃন্দ বলেন, হাম একটি সংক্রামক রোগ হওয়া সত্ত্বেও সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। হাম প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, বরং সামাজিক, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়েও সম্মিলিত সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের হাম পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে এবং শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাবে। সর্বোপরি এনএইচএ এই সংকটকালীন সময়ে সবাইকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাবে।
সভায় সংগঠনের পক্ষ থেকে হাম মোকাবেলায় কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—সারাদেশে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো, লিফলেট বিতরণ, ফটোকার্ড ও ভিডিও বার্তা তৈরি, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন এবং হাসপাতালে গিয়ে আক্রান্ত রোগী ও তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়া।
এ ছাড়া টিকা নিয়ে গুজব প্রতিরোধ, ভ্যাকসিনভীতি দূর করা, শিশুদের বাদ পড়া ডোজ সম্পন্ন করতে উদ্বুদ্ধ করা এবং রোগের বিস্তার ও কারণ অনুসন্ধানে গবেষকদের সঙ্গে সমন্বয় করা।
এ সময় সরকারের কাছে কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এনএইচএর নেতৃবৃন্দ। এর মধ্যে রয়েছে—টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা, হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন ওয়ার্ড ও আইসিইউ শয্যা বৃদ্ধি, অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাম্পেইন পরিচালনা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া।
একই সঙ্গে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় রেড অ্যালার্ট জারি, জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য বিশেষ সেন্টার প্রস্তুত রাখা এবং দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে বিশেষজ্ঞ জনবলকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এমআর/এমইউ