সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালুর প্রস্তাব জেলা প্রশাসকদের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য স্বাস্থ্য বীমা চালুর প্রস্তাব করেছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। এতে সরকারি কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত চিকিৎসা ব্যয়ের অনিশ্চয়তা কমবে এবং সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে মনে করেন তারা।
আজ রোববার (৩ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হওয়া চার দিনের ডিসি সম্মেলনে এ প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বীমা চালুর পক্ষে যুক্তি দিয়ে রাজবাড়ীর ডিসি আফরোজা পারভীন বলেছেন, স্বাস্থ্য বীমা ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাওয়া সহজ হবে। কর্মীদের শারীরিক সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা ও উৎপাদনশীলতা উন্নত হবে। দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিপূরণমূলক ব্যয়ের পরিবর্তে ঝুঁকিভিত্তিক বীমা মডেল গ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং একটি টেকসই ও কাঠামোবদ্ধ স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
সম্মেলন উপলক্ষে সারাদেশ থেকে বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা এক হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। এর মধ্য থেকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বাছাই করা ৪৯৮টি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।
দুর্গম অঞ্চলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রেশন সুবিধা প্রদান, পাহাড়ি ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ এবং ঝুঁকি-ভাতা ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন। রাঙামাটি ও বান্দরবানের ডিসি প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, দুর্গম এলাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় ও কষ্ট বেশি। রেশন ও বাড়তি ভাতা দিলে জনবল ধরে রাখা ও প্রেষণা বৃদ্ধি পাবে।
গাজীপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল, রংপুরে এক হাজার শয্যার হাসপাতাল, নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ও গভর্নমেন্ট প্লিডার (জিপি) নিয়োগ দেওয়াসহ নানা প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতি
সম্মেলনে সিদ্ধান্তগুলো তিন ভাগে বাস্তবায়ন করা হয়। এগুলো হলো স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বেশি সময় লাগে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ধীরগতি দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অনুষ্ঠিত গতবারের ডিসি সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৬১ শতাংশ। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত মধ্যমেয়াদি সিদ্ধান্ত ৩৫ শতাংশ এবং দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত ১৬ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মন্ত্রী ও সচিবদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সংক্রান্ত বিষয়ে ডিসিদের দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মাঠপর্যায়ে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে ডিসিরা নীতিনির্ধারণ, উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তাদের প্রস্তাব এই সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম ডিসি সম্মেলন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন বিভাগীয় কমিশনার ও ডিসিরা। প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও আওতাধীন সংস্থা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং আইন মন্ত্রণালয় বিষয়ে আলোচনা হবে। প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে ডিসিরা বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
দ্বিতীয় দিনে আগামীকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ-সম্পর্কিত আলোচনা হবে। এ ছাড়া এদিন জাতীয় সংসদ ভবনে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন ডিসিরা।
তৃতীয় দিনে ৫ মে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সম্পর্কে আলোচনা হবে। একই দিনে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ভবনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। এদিন নির্বাচন কমিশন-সংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনার কথা রয়েছে।
আগামী ৬ মে সম্মেলনের শেষ দিনে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা হবে। এদিন রাতে রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভা হবে। সেখানে ডিসিসহ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রাতের খাবার খাবেন।
এমআই/এমইউ