প্রথমবারের মতো শিশুদের ম্যালেরিয়ার ওষুধের অনুমোদন ডব্লিউএইচওর
মেডিভয়েস রিপোর্ট: নবজাতক ও শিশুদের ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় প্রথমবারের মতো একটি বিশেষায়িত ওষুধের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য তৈরি প্রথম অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধটির নাম ‘আর্টেমেথার-লুমফ্যান্ট্রিন’ (Artemether-lumefantrine)।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে এই অ্যান্টিম্যালেরিয়াল ওষুধটির প্রাথমিক অনুমোদন দেয় ডব্লিউএইচও।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রিকোয়ালিফিকেশন পাওয়ার অর্থ হলো—ওষুধটির গুণগত মান, নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যাচাই করে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এতদিন শিশুদের চিকিৎসায় বড়দের জন্য তৈরি ওষুধ ব্যবহার করা হতো। এতে সঠিক ডোজ নির্ধারণে ভুলের সম্ভাবনা থাকত, পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও বেশি ছিল।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস বলেন, শত শত বছর ধরে ম্যালেরিয়া অসংখ্য পরিবারের সন্তান কেড়ে নিয়েছে এবং বহু অঞ্চলের স্বাস্থ্য, সমৃদ্ধি ও আশাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে এখন পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। নতুন টিকা, উন্নত রোগ নির্ণয় পদ্ধতি, কার্যকর মশারি এবং শিশুদের উপযোগী ওষুধ এই পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের জীবদ্দশায় ম্যালেরিয়া নির্মূল করা এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়, বরং বাস্তব সম্ভাবনা। তবে এজন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আর্থিক বিনিয়োগ।
ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ৮০টি দেশে প্রায় ২৮ কোটি ২০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে প্রায় ছয় লাখ ১০ হাজার মানুষ। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে আফ্রিকায়, এবং মৃত্যুর তিন-চতুর্থাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে।
সংস্থাটি জানায়, ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, যেমন—ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, কীটনাশকের প্রভাব হ্রাস, সঠিকভাবে রোগ নির্ণয়ে ব্যর্থতা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতি। নতুন এই অনুমোদনের ফলে সরকারি পর্যায়ে ওষুধ সংগ্রহ সহজ হবে। এর মাধ্যমে আফ্রিকার ম্যালেরিয়া-প্রবণ অঞ্চলে প্রতি বছর জন্ম নেওয়া প্রায় তিন কোটি শিশুর চিকিৎসা সংকট অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী বর্তমানে প্রায় ৭০ শতাংশ দেশের নিজস্বভাবে ওষুধ, টিকা বা চিকিৎসা সরঞ্জামের মান যাচাই করার সক্ষমতা নেই। এই প্রেক্ষাপটে ডব্লিউএইচওর প্রিকোয়ালিফিকেশন কর্মসূচি আন্তর্জাতিকভাবে মানসম্মত চিকিৎসা পণ্য সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
টিআই/
এনডিএফের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মত
দুর্নীতির লাগাম না টানলে বড় বরাদ্দেও সুফল মিলবে না
এনডিএফের কর্মশালায় বিশেষজ্ঞদের মত
দুর্নীতির লাগাম না টানলে বড় বরাদ্দেও সুফল মিলবে না
দশ জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন
এক হাজার শয্যার ২০ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী