রমেক ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে উত্তেজনা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ছাত্রাবাসে সিট বরাদ্দকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) ক্যাম্পাস। লটারি ছাড়াই কক্ষ বরাদ্দের অভিযোগে অধ্যক্ষের কক্ষে ইসলামী ছাত্রশিবিরের অবস্থানের পর ছাত্রদলের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও পাল্টাপাল্টি মিছিলের ঘটনা ঘটেছে। জুলাই পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্বচ্ছতা ধরে রাখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এই ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, নবাগত প্রথম বর্ষের ছাত্রদের স্থান দিতে পঞ্চম বর্ষে উন্নীত ছাত্রদের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছাত্রাবাস থেকে ডা. মুক্তা ও ডা. পিন্নু ছাত্রাবাসে স্থানান্তর করার রীতি রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগের শাসনকালে এর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সিট বরাদ্দে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তবে জুলাইয়ের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর লটারির মাধ্যমে রুম বরাদ্দ দেয়ার রীতি চালু হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য এক স্বস্তির বিষয়।
তবে এবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অনিয়ম ভঙ্গ করার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীর। তারা বলেন, এবার নতুন অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন ও হোস্টেল সুপাররা কোনো প্রকার লটারি ছাড়াই রুম বরাদ্দ দিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভালো রুম বেছে নেয়ার সুযোগ দিতেই প্রথা ভেঙে লটারি ছাড়া সিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ছাত্রশিবির ও সাধারণ ছাত্ররা অধ্যক্ষের কক্ষে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আগে থেকেই অধ্যক্ষের কক্ষে অবস্থান করা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লটারি ছাড়া সিট বরাদ্দের পক্ষ নিলে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে সিট বরাদ্দ দিয়ে পুনরায় একটি বিশেষ ছাত্র সংগঠনের প্রভাব বিস্তারের ব্যবস্থা করেছেন অধ্যক্ষ। এতে ক্যাম্পাসের শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে রমেক অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছু শিক্ষার্থী মৌখিক অভিযোগ নিয়ে এসেছিল। আমি তাদেরকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে একাডেমিক কাউন্সিলে তা নিয়ে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, লটারি ছাড়া সিট বরাদ্দ দেয়ার পরে এখন আবার একাডেমিক কাউন্সিলের নামে সময়ক্ষেপণ করে নির্দিষ্ট সংগঠনকে সুবিধা দিচ্ছেন অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন।
জানতে চাইলে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্র শিবির সভাপতি ডা. সাদিক শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের ধারণা, প্রশাসন ক্যাম্পাসে আবার লেজুড়বৃত্তির পথে হাঁটছে। প্রশাসনিক থেকে হলের রুম বরাদ্দ পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে তারা এ নীতি অবলম্বন করছেন। আমরা জানিয়েছি, প্রতিটি কাজ ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে করতে হবে। হলের বরাদ্দ লটারির মাধ্যমে করতে হবে, তাতে সবার উপকৃত হয় এবং কারও অভিযোগ করার সুযোগ থাকে না। কিন্তু একটি নির্দিষ্টি অ্যালটমেন্ট চাপিয়ে দেওয়া হলে নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দল ছাড়া অন্যরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটি নিশ্চি করতে স্যারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু সহযোগিতা পাওয়া যায়নি।’
অন্যদিকে ছাত্রদল সভাপতি ডা. মামুন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘ছাত্রশিবির নিজেদের অনুসারীদের জন্য সুবিধাজনক রুম নিশ্চিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। অধ্যক্ষ ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই সুষ্ঠুভাবে রুম বরাদ্দ করেছেন।’
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রদল এবং শুক্রবার জুমা পরবর্তী সময়ে ছাত্রশিবির পাল্টাপাল্টি ক্যাম্পাসে মিছিল করে। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে লটারি অথবা মেধার ভিত্তিতে স্বচ্ছতার সাথে সিট বণ্টন অপরিহার্য। যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব এড়িয়ে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এমইউ/