এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু, বসেছে সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্রের মাধ্যমে এসএসসি ও কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ বিষয় দিয়ে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষায় বসেছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী। এবারের পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ পরীক্ষার্থী কমেছে।
সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
পরীক্ষার সূচি অনুযায়ী, আগামী ২০ মে পর্যন্ত এসএসসির তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে। এরপর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত হবে ব্যবহারিক পরীক্ষা। দাখিলের তত্ত্বীয় পরীক্ষা চলবে ২৪ মে পর্যন্ত। আর ৭ থেকে ১৪ জুনের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হবে পরীক্ষা। পরে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩১৮ জন। আর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে তিন লাখ তিন হাজার ২৮৬ জন ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অংশ নিচ্ছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী।
জানা গেছে, সারাদেশে ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তিন হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬।
পরীক্ষার কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) এবং পরে সৃজনশীল বা রচনামূলক অংশ হবে; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয় ছাড়া। দুই অংশের মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না। এমসিকিউ অংশের জন্য ৩০ মিনিট এবং সৃজনশীল অংশের জন্য দুই ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ
শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে প্রবেশপত্র নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বলা হয়। পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পরীক্ষায় শুধু সাধারণ নন-প্রোগ্রামেবল সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে। নিবন্ধনপত্রে উল্লেখিত বিষয় ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে অংশ নেওয়া যাবে না।
শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, বহুনির্বাচনী, সৃজনশীল ও ব্যবহারিক– প্রতিটি অংশে আলাদাভাবে পাস করতে হবে; কোনো এক অংশে অকৃতকার্য হলে পুরো বিষয়েই অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য করা হবে।
সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় প্রতিটি কেন্দ্র
এবার প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি মনিটরিং করা হবে। প্রশ্ন ফাঁস ও ডিজিটাল অনিয়ম ঠেকাতে জোরদার করা হয়েছে সাইবার মনিটরিং।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষা পরিচালনায় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি সমন্বিত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। নকল ও অনিয়ম প্রতিরোধে আইন সংশোধনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যাতে ডিজিটাল অপরাধকে শাস্তির আওতায় আনা যায়।
এমইউ/