ডা. মো. জাফর ইকবাল

ডা. মো. জাফর ইকবাল

সিনিয়র কনসালট্যান্ট এ্যান্ড কো-অর্ডিনেটর, সার্জারি আইসিইউ এ্যান্ড এইচডিইউ, এভারকেয়ার হাসপাতাল


১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ০৩:৫৪ পিএম

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ব্যক্তিগত নয়, সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ ব্যক্তিগত নয়, সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব
প্রতীকী ছবি

অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ আজ বিশ্বের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সংকট। আমরা প্রত্যেকে এমন এক জীবাণুময় পরিবেশে বসবাস করছি, যেখানে একজনের অসচেতনতা অজান্তেই বহু মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার কেবল ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়; এটি সমাজ, পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই এই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত সুবিধা–অসুবিধার সীমায় না দেখে সম্মিলিত সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি। সচেতনতা, পারস্পরিক দায়বদ্ধতা এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমেই আমরা এই ক্রমবর্ধমান সংকট মোকাবিলা করতে পারি।

আমরা জীবাণুর মহাসমুদ্রে সাঁতার কাটছি। তাহলে এই মহাসমুদ্র যদি দূষিত করি, তবে এটি তো একক ব্যক্তি কখনো দূষিত করতে পারবে না। একক ব্যক্তি এই ব্যাকটেরিয়াল কমিউনিটিকে শিক্ষিত করতে পারবে না। অথবা সে একা অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করাতে পারবে না। এটি একটি সম্মিলিত সামাজিক বিষয়। কেউ যদি মনে করে আমি দামি দামি অ্যান্টিবায়োটিক খেয়ে সেভ থাকব, মোটেও সেভ থাকতে পারবে না। কেউ যদি মনে করে আমি এটা করলাম, অন্যের কোনো ক্ষতি করছি না—মোটেও তা না। আপনার যেমন কার্বন নিঃসরণ সারা পৃথিবীকে উষ্ণ করছে, সারা পৃথিবী তলিয়ে যেতে পারে; তেমনি অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে আপনার নিজের অসচেতনতায় আপনি নিজেও ডুববেন, আশেপাশের সবাইও ডুববে।

আপনি ধূমপান করছেন না, কিন্তু আপনি সচেতন—ওনার ধোঁয়ার কারণে আমার ক্ষতি হবে। এ কারণে আপনি তাকে উপদেশ দিচ্ছেন, ‘ভাই, ধূমপান জোন নয়; যেখানে ধূমপান জোন আছে, আপনি সেখানে গিয়ে ধূমপান করুন। তেমনই অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রেও সামাজিক সচেতনতা এই পর্যায়ে আসতে হবে। কেউ যদি অপব্যবহার করে, তাহলে অন্যান্য সচেতন মানুষের দায়িত্ব হলো তাকে বাধা দেওয়া এবং বলা যে—আপনি নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, আমাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। অতএব, আপনি এটি বন্ধ করুন। এই সচেতনতা সৃষ্টি করা সামাজিক দায়বদ্ধতা।

এ ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় হলো—বিভিন্ন অংশীজনের দায়িত্ব রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে। গণমাধ্যমের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। গণমাধ্যমের সচেতনতা ছাড়া ডাক্তাররা বলে-কয়ে কতক্ষণ মানুষকে সচেতন করতে পারবেন? আমাদের গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।

গণমাধ্যম যদি মানুষকে সচেতন করে, তাহলে যেমন পরোক্ষ ধূমপানের কারণে মানুষ যে ক্ষতির শিকার হয়—এটি আজ সবাই জানে; যেমন বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে আমরা সবাই ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি—এটিও মানুষ গণমাধ্যমের কল্যাণেই জেনেছে; তেমনি চিকিৎসার ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহারের কারণে আমরা সবাই যে ক্ষতির মধ্যে পড়ছি, সেটিও গণমাধ্যমের মাধ্যমে সবাইকে জানানো উচিত।

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত