এমবিবিএস ও বিডিএসের প্রথম বর্ষের ছাত্রীদের ইসলামী ছাত্রীসংস্থার সংবর্ধনা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা আয়োজনে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ও বিডিএসের ছাত্রীদের নিয়ে হয়ে গেল ফ্রেশারস অ্যান্ড গাইড লাইন-২৬। গত ১৯ জানুয়ারি রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে এই অনুষ্ঠান হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. কানিজ ফাতেমা রিফাত জাহান।
নবীন শিক্ষার্থীদের মানবিক চিকিৎসক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর দেয়া এ আমানত কীভাবে রক্ষা করা যায়, এ ব্যাপারে প্রথম বর্ষ থেকেই আন্তরিক হওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সবার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার ও সবার জন্য কাজ করার চিন্তা নিজের মধ্যে লালন করতে হবে।
এ সময় পরিবার ও ভবিষ্যৎ জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ দেন ডা. কানিজ ফাতেমা রিফাত জাহান।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইসলামী ছাত্রীসংস্থার সেক্রেটারি জেনারেল ডা. উম্মে আরওয়া। তিনি বলেন, মহান রবের শুকরিয়া আদায়ের গুরুত্ব ও স্বপ্ন কেমন হওয়া উচিত? আল্লাহ রব্বুল আলামীন সবাইকে এ সুযোগ দেননি, যারা চান্স পেয়েছে আল্লাহ তাদের বাছাই করেছেন। তাই প্রতি মুহূর্তে শুকরিয়া আদায় করা উচিত। সেই সাথে যে কোনো পরিস্থিতিতে মূল ফোকাস হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং উম্মাহর জন্য কিছু করা। একই সাথে তিনি সব অবস্থায় আল্লাহর সিদ্ধান্তের উপর সন্তুষ্ট থাকার পরামর্শ দেন।
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সেশন পরিচালনা করেন চাইল্ড জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অ্যান্ড অ্যাডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রির এফসিপিএস পার্ট-২ এর প্রশিক্ষণার্থী ডা. নুজহাত ওয়ারা। এই সেশনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল মেডিকেলে পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ, সময় স্বল্পতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা—এসবের মাঝে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়ার গুরুত্ব। এ ছাড়াও ছিল ইসলামের মূল্যবোধের আলোকে মানসিক সুস্থতা, টাইম ম্যানেজমেন্ট এবং ভারসাম্যপূর্ণ মেডিকেল লাইফ লিড করার দিকনির্দেশনা।
একাডেমিক গাইডলাইন সেশনে প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক মেন্টরিং প্রোগ্রামে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির (রহ.) স্মরণে একটি ডকুমেন্টারি পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল ফুলের মেলা জাতীয় শিশু সংগঠনের শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক আয়োজন। হামদ, অনুভূতি প্রকাশ, কাওয়ালি, আবৃত্তি আর নির্বাচনী রম্য নাটিকার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্ব জমজমাট হয়ে উঠেছিল।
ছাত্রী সংস্থার থিম সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপনী ঘোষণা করা হয়।
এর আগে সকাল ৮.৩০টা থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। সারিবদ্ধভাবে উপহার সামগ্রী সংগ্রহ করে অডিটোরিয়ামে আসন গ্রহণ করে শিক্ষার্থীরা। পুরো আয়োজনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
বেলা সকাল ১০টায় কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে রিসেপশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। পরবর্তীতে ছিল রিসেপশন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী ঘোষণা।
এমইউ/