সুযোগ পাওয়া ৫০ জনের ৪৬ জনই মুসলিম, হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভে ভারতে মেডিকেলের স্বীকৃতি বাতিল
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভারতের জম্মুতে শ্রী মাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সের স্বীকৃতি বাতিল করেছে ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিল (এনএমসি)। ফলে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হওয়া ৫০ জন শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চিতায় পড়েছেন, যাদের ৪৬ জনই মুসলিম। স্বীকৃতি বাতিলের কারণ হিসেবে শিক্ষকের ঘাটতিসহ একাধিক শূন্যতার কথা বলা হলেও হিন্দু-মুসলিম বিতর্ক এড়াতেই এনএমসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
শ্রী মাতা বৈষ্ণো দেবি মেডিকেল ইনস্টিটিউটে ভর্তি সংক্রান্ত বিতর্কের প্রতিবাদে গত মঙ্গলবার জম্মুতে রাষ্ট্রীয় বজরং দলের বিক্ষোভের খবর দিয়ে দ্য ইনডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা মেধা তালিকায় পরিবর্তনের দাবি জানায় এবং কেবল হিন্দু শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি নিশ্চিত করার দাবি তোলে।
এনএমসি জানিয়েছে, কলেজে শিক্ষক ও ডাক্তারের ব্যাপক অভাব, রোগীর কম সংখ্যা এবং দুর্বল অবকাঠামো পরিস্থিতি নজরে আসে। মেডিকেল শিক্ষার জন্য যে যে বিষয় আবশ্যিক বলে ২০২৩ সালে তৈরি এনএমসির নিয়মবিধি নির্দিষ্ট করেছে, ওই প্রতিষ্ঠানে তা নেই।
এই কারণগুলির জন্য এনএমসি ২০২৫-২৬ সেশনের জন্য এমবিবিএস কোর্সের অনুমোদন বাতিল করেছে। এর আগের সেশনের শিক্ষার্থীদের অন্যান্য স্বীকৃত মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরিত করা হবে। ফলে চলতি বছর, অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে ওই কলেজে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়তে ভর্তি হওয়া ৫০ জন শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেল।
তবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এনএমসির নিয়ম মেনেই ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, জম্মু-কাশ্মীরের ১৩টি মেডিকেল কলেজের মোট ১ হাজার ৬৮৫ আসনে ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্টের (নিট) তৈরি তালিকা থেকে শিক্ষার্থীদের নেওয়া হয়েছে। মোট আসনের ৮৫ শতাংশ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। বাকি আসন দেশের অন্যান্য অংশের জন্য।
বিভিন্ন মহলের ধারণা, হিন্দু-মুসলিম বিতর্কের আপাতত অবসান ঘটাতেই এনএমসির এই সিদ্ধান্ত। হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, কোনো দিক থেকেই প্রতিষ্ঠানের কোনো অভাব নেই। এনএমসি যে সময় নজরদারি চালাতে এসেছিল, তখন শীতের ছুটি চলছে।
জানা গেছে, কেন্দ্রশাসিত জম্মু-কাশ্মীরে ২০১৬ সালে শ্রী মাতা বৈষ্ণদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্সের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈষ্ণদেবী মন্দির কর্তৃপক্ষ এই প্রতিষ্ঠানের চালক।
দু-তিন মাস ধরে সংস্থাটির স্থানীয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। হিন্দুত্ববাদীদের অভিযোগ, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে যে ৫০ জন শিক্ষার্থীকে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৪৬ জনই মুসলিম।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরঙ্গ দলসহ হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের দাবি, বৈষ্ণদেবী মন্দির কর্তৃপক্ষের দানের টাকায় তৈরি ওই সংস্থায় হিন্দু শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার থাকা উচিত। কিন্তু দেখা গেছে, ৫০ জনের মধ্যে ৪২ জন কাশ্মীর উপত্যকার, ৮ জন জম্মুর, অর্থাৎ নব্বই শতাংশই মুসলমান। তাঁদের দাবি, মুসলিম শিক্ষার্থীদের বদলে হিন্দুদের নিতে হবে। একই সাথে সিংহভাগ আসন হিন্দুদের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে।
হিন্দুত্ববাদীদের দাবি, এখন যা চলছে তা অব্যাহত থাকলে তা হবে মেডিকেল শিক্ষার ইসলামীকরণ।
জানা গেছে, এ নিয়ে গত দুই-তিন মাস ধরে আন্দোলনরত হিন্দুত্ববাদীরা সম্প্রতি প্রতিবাদ সমাবেশে বৈষ্ণদেবী মন্দির বোর্ডের কুশপুত্তলিকাও পুড়িয়েছিল।
তাদের আন্দোলনের কারণে ওই প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বিরক্ত হয়ে কয়েক দিন আগে বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিক। সেখানে শিক্ষার্থীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। তাদের অন্যত্র পাঠানো হোক।
স্থানীয় বিজেপি নেতারাও ওই ভর্তিব্যবস্থার বিরুদ্ধে। দলের পক্ষ থেকে উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহাকে ভর্তিপ্রক্রিয়া বাতিল করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু আইনত তা অসম্ভব। সেই কারণে স্বীকৃতিই বাতিল করা হলো বলে মনে করা হচ্ছে।
এমইউ/
সূত্র: প্রথম আলো
দশ জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন
এক হাজার শয্যার ২০ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উপলক্ষ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ
দেশের খেলোয়াড়দের জন্য মাইকেয়ারে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প
দশ জেলায় আইসিইউ উদ্বোধন
এক হাজার শয্যার ২০ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উপলক্ষ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ
দেশের খেলোয়াড়দের জন্য মাইকেয়ারে ফ্রি হেলথ ক্যাম্প
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি
ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক