৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৯:২৯ পিএম

স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় বেগম খালেদা জিয়া

স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায় বেগম খালেদা জিয়া
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে দাফন করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: সংসদভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে নিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হয়।

দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন বড় ছেলে তারেক রহমান। স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা কিছুটা দূরত্বে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে দাঁড়িয়ে দাফন প্রক্রিয়া দেখেন।

এর আগে বিকাল ৩টার দিকে মানিক মিয়া এভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা হয়। খালেদা জিয়ার জানাজা পড়ান জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। জানাজার আগে তারেক রহমান তার মায়ের জন্য দোয়া চান এবং মায়ের পক্ষে সবার কাছে ক্ষমা চান।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশি-বিদেশি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। শেষ বিদায়ে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ছিলেন পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া অংশ নেন ৩২ দেশের কূটনীতিক।

দেশের নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানাজায় শরিক হন।

পরে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির কাছাকাছি নেওয়ার পর খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী কফিন কাঁধে নিয়ে কবরে নিয়ে যান সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা। এরপর সেখানে নিয়ম মেনে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তার মৃত্যুতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে সরকার। একইসঙ্গে আজ বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসের পাশাপাশি কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

গত ২৩ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসনের শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সংকটময় অবস্থায় গত ২৭ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়াকে সেখানে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ডের অধীনে নিবিড় চিকিৎসায় ছিলেন তিনি। সেখানে মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় মারা যান তিনি।

এর আগে গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়েছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ১১৭ দিন সেখানে অবস্থানের পর গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি। এরপর শারীরিক নানা জটিলতায় একাধিকবার তাঁকে হাসপাতালে যেতে হয়।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : বেগম খালেদা জিয়া
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক