কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড
মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত কয়েক দিন ধরে ঘনকুয়াশার সঙ্গে শৈত্যপ্রবাহে স্থবির হয়ে পড়েছে কিশোরগঞ্জের জনজীবন। জেলার হাওর অধ্যুষিত উপজেলা নিকলীতে কয়েক দিন ধরেই সূর্যের দেখা মিলছে না। দুপুরের দিকে খানিক উঁকি দিলেও ফের কুয়াশার আড়ালে হারিয়ে যায় সূর্য।
এ অবস্থায় আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) উজান-ভাটির সেতুবন্ধনখ্যাত এই উপজেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই উপজেলার তাপমাত্রা আজ সকালে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।
শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার পূর্বাভাস
নিকলী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম মাছুম জানান, সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৮ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়। আজকে এ বছরের প্রথম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে এখানে। আজকের তুলনায় আগামীকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) শীতের তীব্রতা সামান্য বাড়তে পারে।
তিনি আরও জানান, নিকলীতে ২০১৪ সাল থেকে পর্যবেক্ষণাগারের কাজ শুরু হয়েছে। গত বছরও এ উপজেলায় শীতে দুইদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে জানিয়ে জাহিদুল ইসলাম মাছুম বলেন, চলতি মাসজুড়েই শীতের প্রভাব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিকলীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে, ২৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দিন ও রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ার কারণে দেশের অনেক জায়গায় শীতের অনুভূতি থাকতে পারে।
আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাস দিয়ে আবহাওয়া অফিস বলেছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোথাও কোথাও পর দিন সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকতে পারে।
সকল যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার সতর্কতা
ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এদিকে গত কয়েকদিনের টানা শৈত্যপ্রবাহে সারাদেশের জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের জীবনে। দৈনন্দিন কাজে যেতে না পেরে টান পড়েছে তাদের উপার্জনে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তীব্রশীতের প্রভাব পড়েছে বোরো ধানের আবাদেও। মৌসুমের শুরুতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় ধানের চাড়া নষ্ট হওয়ার দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা।
এমইউ/