বিএইচআরএফ সদস্যদের সঙ্গে ওজিএসবির মতবিনিময়ে বক্তারা
‘মাতৃমৃত্যু হ্রাসের হার স্থিমিত, গতিশীলতায় মানসম্মত পদক্ষেপ জরুরি’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ ও খিচুনির কারণে মাতৃমৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটছে। দেশে গত কয়েক দশকে এ হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। তবে বর্তমানে মাতৃমৃত্যুর হার অনেকাংশেই স্থিমিত হয়ে গেছে। হ্রাসের এই হার আরও গতিশীল করতে মানসম্মত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন (বিএমএ) ভবনের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএইচআরএফ) সদস্যদের সঙ্গে অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুধে ধরা হয়।
বাংলাদেশের মাতৃস্বাস্থ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ও মাতৃসেবার মানোন্নয়নের একটি প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জানানো হয়, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.১ অনুযায়ী ২০২৩ নাগাদ বাংলাদেশের মাতৃমৃত্যুর হার ৭০ এর কম অর্জন করতে হবে। যদিও বাংলাদেশে মাতৃমৃত্যুর হার যথেষ্ট কমেছে, কিন্তু বর্তমানে এই হ্রাসের হার অনেকটাই স্থিমিত হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সবার উদ্যোগ আরো গতিশীল, মানসম্মত ও ব্যাপক হওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ডিজিএইচএস, ডিজিএফপি, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ অবস্টেট্রিক্স & গাইনাকোলোজি (ফিগো) এবং ওজিএসবি একটি প্রকল্প ফরিদপুরের চারটি সরকারি হাসপাতালে ও ঢাকার দুটি অলাভজনক হাসপাতালে পরিচালিত হয়েছে ২০২৩-২০২৫ পর্যন্ত। সভায় এই প্রকল্প এবং এর ফলাফল তুলে ধরা হয়।
ব্যারিয়ার ট্র্যাকারের মাধ্যমে মাতৃ ও শিশুর সেবা দানে বাধার সৃষ্টি করে এমন বিষয়গুলো নির্ণয় ও সেগুলো সফলভাবে সমাধান করা হয়েছে বলেও সভায় জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে গাইনি বিশেষজ্ঞরা বলেন, যে বিষয়গুলোর উপর কাজ করা হয়েছে সেগুলো হলো—প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ, গর্ভকালীন উচ্চ রক্তচাপ, অপরিণত শিশু প্রসবের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন কর্টিকোস্টেরেয়ড প্রয়োগ এবং রক্তস্বপ্নতার চিকিৎসায় লৌহজাতীয় ইঞ্জেকশেনের ব্যবহার।
অনুষ্ঠানে ওজিএসবির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম স্বল্প মূল্যে সহজে তৈরি করা যায়, এমন একটি উদ্ভাবন প্রদর্শন করেন, যা লক্ষ লক্ষ মায়ের জীবন বাঁচাতে পারে।
তিনি বলেন, সহজলভ্য স্বচ্ছ/স্বল্পস্বচ্ছ পলিথিনের ব্যাগের মাধ্যমে কৌশলে ত্রিকোণ আকৃতির দাগাঙ্কিত থলি স্বাভাবিক প্রসবের সময় ব্যবহার করে প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব পরিমাপ করে রক্তক্ষরণের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এটি নার্স ও মিডওয়াইফরা হাসপাতালে তৈরি করতে পারেন, যার মূল্য মাত্র ৫ টাকা; প্রকল্পে এটির সফল ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে।
এমইউ/