১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৫:১২ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএমইউতে ভাঙচুরের মামলায় ডা. আরিফ গ্রেপ্তার

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিএমইউতে ভাঙচুরের মামলায় ডা. আরিফ গ্রেপ্তার
ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটো। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) কার্ডিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতা ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটোকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আজ মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বিএমইউর একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ারদার টিটো। পরে চিকিৎসকরা তাকে ঘিরে ধরেন। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে থানায় যায়। ‌

ডা. আরিফুল ইসলাম টিটোর বিরুদ্ধে বিএমইউতে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গাড়ি পোড়ানো ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা রয়েছে। পরে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় স্বাচিপ সমর্থিত শিক্ষক ও চিকিৎসকসহ নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) প্রশাসন। বিএমএইউর প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বছরের ৪ আগস্ট আনুমানিক সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্ররা তাদের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি পালন করছিলেন। সে সময়ে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের ভিতরে ও এক নম্বর গেটের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিরত স্বাচিপসহ তৎকালীন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ সরকারের আজ্ঞাবহ শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বৈষম্যবিরোধীদের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে।

এতে আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা স্লোগান দিলে প্রশাসনিক ভবনের ভিতর এবং ছাদের উপর থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারী মিলে বৃষ্টির মতো ইট পাটকেল ও ভারি বস্তু নিক্ষেপ করতে থাকে। তাদের ছোঁড়া ইটের আঘাতে অনেক আন্দোলনকারী মারাত্মক আহত হয়, যা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে দেখা যায়। বিবাদীরা ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে আক্রমণ করে প্রাণনাশের চেষ্টা করেন। সে সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে রাখা হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষের গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নি সংযোগ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, জড়িতদের অনেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে চিহ্নিত। ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের ভিতরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি গাড়ি ও মোটর সাইকেল পুড়িয়ে ফেলা হয়। এ ছাড়াও কেবিন ব্লকের সামনেসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়। ক্যাম্পাসের ভিতরে পোড়া বাস দেখলেই বোঝা যায় ওই দিন কী বিভৎস্য অবস্থা হয়েছিল।

একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের সামনে এক শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয় বলেও উল্লেখ রয়েছে এজাহারে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা তদন্তে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটি। তার ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ভাঙচুর, অগ্নি-সংযোগ ও হত্যাচেষ্টার দায়ে অজ্ঞাতনামা চিকিৎসক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, নার্সসহ সব আসামিদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানায় বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদনে স্বাচিপের বিএসএমএমইউ শাখার আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আবু নাসের রিজভী, সদস্য সচিব ডা. আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার টিটো, বিএসএমএমইউর সাবেক প্রো-ভিসি (অ্যাকাডেমিক) ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আতিকুর রহমান, স্বাচিপের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের নাম রয়েছে।

এর আগে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে গত ৫ জানুয়ারি ১৫ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বরখাস্ত হওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. আবু তোরাব আলী মিম এবং চর্ম ও যৌন রোগ বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রিয়াজ সিদ্দিকী প্রাণ রয়েছেন।

এ ছাড়া হাসপাতাল পরিচালক কার্যালয়ের পেইন্টার নিতীশ রায়, মো. সাইফুল ইসলাম, এমএলএসএস কাজী মেহেদী হাসান, সহকারী ড্রেসার শহিদুল ইসলাম (সাইদুল) ও সুইপার সন্দীপ, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের অফিস সহকারী উজ্জ্বল মোল্লা, পরিবহন শাখার ড্রাইভার সুজন বিশ্ব শর্মা, বহির্বিভাগে (ওপিডি-১) এমএলএসএস ফকরুল ইসলাম জনি, ল্যাবরেটরি সার্ভিস সেন্টারের কাস্টমার কেয়ার এটেনডেন্ট রুবেল রানা, সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শবনম নূরানী, ওয়ার্ড মাস্টার অফিসের এমএলএসএস শাহাদাত, কার্ডিওলজি বিভাগের এমএলএসএস মুন্না আহমেদ এবং ওয়ার্ড মাস্টার অফিসের এমএলএসএস আনোয়ার হোসেন রয়েছেন সাময়িক বরখাস্তের তালিকায়।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত