ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো

ডা. মো. জয়নাল আবেদীন টিটো

২১তম বিসিএসের একজন সদস্য
সাবেক লাইন ডিরেক্টর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর


০৫ অক্টোবর, ২০২৫ ০৩:৪৪ পিএম

৪৮তম বিসিএস: নিয়োগ-পদায়নের পূর্বে সুপারিশপ্রাপ্তদের যা জানা জরুরি

৪৮তম বিসিএস: নিয়োগ-পদায়নের পূর্বে সুপারিশপ্রাপ্তদের যা জানা জরুরি
প্রতীকী ছবি

৪৮তম বিসিএস পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) তাদের নাম (রোল নম্বর) ঘোষণা করেছে। এবার নিয়োগের পালা। এর পূর্বে তিনটি শর্ত আছে, যথা—

ক. প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া,
খ. স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য বলে বিবেচিত হওয়া এবং
গ. সরকারি সংস্থা (পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা) কর্তৃক ভ্যারিফিকেশন।

এবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সরকারি সংস্থা কর্তৃক ভ্যারিফিকেশন সম্পন্ন হলে সরকার (সরকারের পক্ষ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়) কর্তৃক নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালে ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটেছিল। সেই বৎসর করোনার মহামারী শুরু হলে সরকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই জরুরি ভিত্তিতে ২০০০ ডাক্তার নিয়োগ দেয়। ব্যতিক্রমকে অবশ্য উদাহরণ হিসাবে টানা যায় না। গেজেটেড অফিসারদের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাংলাদেশ গেজেটে প্রকাশিত হয়। তারপর পদায়নের পালা। প্রথম পদায়ন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে হতে পারে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হতে পারে অথবা বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) দপ্তর থেকেও হতে পারে। প্রথম পদায়নের স্থান (কর্মস্থল) হবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন, ২০১০ অনুসারে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার শর্ত হলো বিএমডিসির স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন। আপনার বিএমডিসি স্থায়ী রেজিস্ট্রেশন না-থাকলে রেজিস্ট্রেশন করে নিন । আর রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেটা রিনিউ করে নিন।

আপনার যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে তো খুবই ভাল। না থাকলে দ্রুত একটি অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলুন। কারণ সরকার তাঁর কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেয়। যে ব্যাংক দেওলিয়া হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেই ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করবেন না। চালু লাভজনক ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট করা উত্তম। তা না হলে ভবিষ্যতে হায় হায় করতে হতে পারে!

নিয়োগ এবং পদায়নের পূর্বে অনেকের অবসর সময় কাটছে। কারও কারও সময় যেন কাটছে না। এমন সময় কী করবেন?

কিছু বিষয়ে জ্ঞান চর্চা করুন, যেগুলো আপনার জন্য আবশ্যক হবে। যেমন—

ক. সরকারের আইন কানুন, বিধি-বিধান সম্বন্ধে পড়াশোনা করুন। এজন্য ফিরোজ মিয়ার লেখা ‘চাকরির বিধানাবলী’ এবং ‘বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস’ কিনে পড়া শুরু করুন। মেডিক্যাল ইথিক্স পড়ুন।

খ. কমিউনিটি মেডিসিন এবং ফরেনসিক মেডিসিনের মূল বইটি আবার রিভিশন দিন। আপনি যখন ইন্টার্ন চিকিৎসক ছিলেন, তখন সহকারী রেজিস্ট্রার, রেজিস্ট্রার, অধ্যাপকগণ আপনার মাথায় উপর ছায়া দিতেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর আপনি নিজেই সমস্যার সমাধানকারী (problem solver), সিদ্ধান্ত প্রদানকারী (decision maker). সুতরাং নিজেকে এভাবেই প্রস্তুত করুন।

যে বিষয়গুলো ভালো করে পড়বেন, সেগুলো হল—

c. Poisoning and its management

d. Physical assault

e. Injury

f. Rape

g. Injury note writing

h. Medical certificate

i. Injury certificate

j. Court management (how to defense)

k. Administrative role of a doctor

l. প্রায়শই জরুরি বিভাগে প্রচণ্ড বুক ব্যথা নিয়ে অনেক রোগী অসুস্থ হয়। তাই ইলেকট্রোকার্ডিওগ্রামের (ইসিজি) জ্ঞানটা ঝালাই করে নিন।

m. injury repair করার জন্য সেলাইটাতে (stitch/suture) একটু হাত পাকিয়ে নিন।

n. ইচ্ছে করলে কোনো একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফ্রি/অনারারী সার্ভিস দিতে পারেন।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত