বিএসপিএমআর’র পুরস্কারে ভূষিত ডা. ফাতেমা ও ডা. শামীম
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের (বিএসপিএমআর) পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন কুমুদিনী উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাতেমা নেওয়াজ ও সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ শামীম ফরহাদ।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর শহীদ আবু সায়িদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিএসপিএমআরকন ২০২৫ সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদেরকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে ডা. ফাতেমা নেওয়াজ মর্যাদাপূর্ণ ইমার্জিং ফিজিয়াট্রিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ ও ডা. শামীম ফরহাদ ইয়াং ফিজিয়াট্রিস্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৫ পুরস্কার পান।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইমার্জিং ফিজিয়াট্রিস্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় ৪০ বছরের কম বয়সী অথবা পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্র্যাকটিসরত ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে। গবেষণা, প্রকাশনা, একাডেমিক কার্যক্রম, বিএসপিএমআরে ভূমিকা এবং সামাজিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমের সার্বিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়।
ইমার্জিং ফিজিয়াট্রিস্ট অ্যাওয়ার্ড জয় ডা. ফাতেমার
ডা. ফাতেমা নেওয়াজ মাত্র ছয় বছরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই সময়ে তার ২২টি গবেষণা প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার পাশাপাশি তিনি সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেও অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিনি চিকিৎসা ক্যাম্প পরিচালনা করেন এবং একই বছরে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষায়িত হেলথ ক্যাম্প আয়োজন করেন।
পরিবেশ, পরিবর্তন ও প্রতিবন্ধিতা নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি দেশে-বিদেশে ‘হেলথকেয়ার প্রফেশনালস রোল ইন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডিসেবিলিটি’ শীর্ষক কর্মশালা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেছেন।
শুধু দেশীয় স্বীকৃতিই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার অবদান স্বীকৃতি পেয়েছে। তিনি ২০২৪ সালে আইএসপিআরএম প্রেসিডেন্ট’স কেবিনেট গ্র্যান্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন, যা বিশ্ব ফিজিয়াট্রিস্টদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি।
শামীম ফরহাদ ইয়াং ফিজিয়াট্রিস্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত
এদিকে গবেষণা, প্রকাশনা ও সমাজসেবায় এক অনন্য অবদানের জন্য বিএসপিএমআর ইয়াং ফিজিয়াট্রিস্ট অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছেন সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শামীম ফরহাদ।
ডা. ফরহাদ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের ফিজিক্যাল মেডিসিন অঙ্গনে নিজের স্বকীয়তা প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি মাত্র দুই বছর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হবার মধ্যেই তাঁর ৪টি আন্তর্জাতিক গবেষণা পাবলিকেশন, ফিজিক্যাল মেডিসিন সাবজেক্টের উপরে ৪টি বই, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সম্পর্কে জনগণের সচেতনতা মূলক ৩টি বই প্রকাশিত হয়েছে।
কিউরিয়াস জার্নালে প্রকাশিত থাম্ব কার্পোমেটাকারপাল জয়েন্ট অস্টিওআর্থারাইটিসে ল লেভেল লেজার থেরাপি সম্পর্কিত র্যান্ডমলাইজড কন্ট্রোল ট্রায়াল এবং নন-ডিসকোজেনিক সায়াটিকা নিয়ে পরিচালিত মৌলিক গবেষণা। এ ছাড়া কোভিড পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি নিয়ে তার গবেষণাও আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
গবেষণার পাশাপাশি একাডেমিক বই লেখায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। ফিজিক্যাল মডালিটিজ ইন রিহ্যাবিলিটেশন মেডিসিন, রিহাব এইড, রিহাব স্টেপস থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ—এর মতো গ্রন্থ ইতিমধ্যে শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের জন্য একটি মূল্যবান রিসোর্স হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সচেতনতা মূলক বই লিখেছেন। বাত ব্যথার বিজ্ঞান সম্মত ব্যয়াম, আর্থরাইটিস গাইড বুক, লিম্ফেডিমা সচেতনতা ও যত্ন এবং অসুস্থ হলে কি করবেন। এসব বই রোগীদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
একাডেমিক কমিউনিটি বিল্ডিংয়েও তার অবদান অনস্বীকার্য। ২০১৮ সালে তিনি রিহাব স্টাডি চিরকেলে প্রতিষ্ঠা করেন এবং ৩০টিরও বেশি বিনামূল্যের রিহ্যাবিলিটেশন সেশন পরিচালনা করেন। পাশাপাশি পিএমআর ভার্চুয়াল ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা করে ছাত্র-শিক্ষক মেলবন্ধনের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন, যেখানে নিয়মিত সাপ্তাহিক একাডেমিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় ডা. শামীম ফরহাদ মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এটি আমার ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশের ফিজিক্যাল মেডিসিন অঙ্গনের জন্য একটি গর্বের মুহূর্ত। আমি বিশ্বাস করি, গবেষণা, রোগী শিক্ষা ও ডিজিটাল হেলথ ইনোভেশন আমাদের ক্ষেত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’
আরও যাদেরকে পুরস্কার প্রদান
সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামকে লাইফ টাইম এচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। নবীন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে থেকে ডা. ফাতেমা নওয়াজ ও ডা. শামীম ফরহাদকে পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি বিগত তিন বছরে পাস করা ৪৮ জন বিশেষজ্ঞকে সম্মাননা জানানো হয়। আইকন অব ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয় বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মঈনুজ্জামান খানকে।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা ফিজিয়াট্রিস্ট, চিকিৎসক ও গবেষকরা।
এমইউ/