২৭ অগাস্ট, ২০২৫ ০২:৫২ পিএম

‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিয়োগ স্বচ্ছ করতে নীতিমালা হচ্ছে’

‘সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিয়োগ স্বচ্ছ করতে নীতিমালা হচ্ছে’
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। ছবি: তারিকুল ইসলাম।

মেডিভয়েস রিপোর্ট: শীঘ্রই বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। এবারের নিয়োগ দেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে নীতিমালা অনুমোদনের পর এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবায় কোনো উন্নতি দৃশ্যমান হবে না বলেও ধারণা করেছেন বিএমইউর সাবেক এই ভিসি।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সাংবাদিকদের সঙ্গে ‘স্বাস্থ্য সেবায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ‘এটি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব হাসপাতাল। তবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আমাদের সঙ্গে তাদের হাসপাতাল পরিচালনা নীতিমালার ক্ষেত্রে কিছু গ্রে এরিয়া (অস্পষ্টতা) আছে। আশা করি, আগামী মাসের মধ্যে এই নীতিমালা অনুমোদন হয়ে গেলে তাঁরা রিক্রুট (নিয়োগ) করতে পারবেন।’

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে হওয়া চুক্তির কথা স্মরণ করে মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী বলেন, ‘একটা নো-কস্ট এক্সটেনশনের (অতিরিক্ত খরচ হবে না, এমন মেয়াদ বৃদ্ধি) মাধ্যমে আরও প্রায় এক বছর চার মাস সময়কালের জন্য তাদের মেয়াদ আছে। অতএব এর মধ্যে তারা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।’

এজন্য নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই বিশাল সংখ্যক জনবল নিয়োগে এর আগে একটা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন আপত্তির কারণে পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটা বাতিল হয়েছে। নতুনভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য নীতিমালা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। নীতিমালাটা অনুমোদন হয়ে যাবে, আমরা মনে করি এক মাস-দেড় মাসের মধ্যে। ওই নীতিমালা অনুমোদনের সাথে সাথে তারা নিয়োগ-প্রক্রিয়া অন করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেখবেন যে এদেশের সবচেয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ হবে স্পেশালাইজড হাসপাতালে। নিয়োগ সম্পন্ন করার পরে তারা ছয় মাস থেকে আট মাস সময় পাবে ট্রেনিং দেওয়ার জন্য।’

তবে ‘ইমিডিয়েটলি ফাংশনাল হাসপাতাল’ দেখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। বলেন, ‘আনুমানিক একশোর মতো রোগী ওখানে থাকে। এটা খুবই লিমিটেড। সাতশোর জায়গায় অল্প একটা অংশ কাজ করে, ১০-১৫%। এটা বাড়তে থাকবে পর্যায়ক্রমে।’

সেবা কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলমান থাকলেও রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব নয় জানিয়ে বলেন, ‘আগামী পাঁচ মাসের আগে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি বোধ হয় হবে না।’

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে রোগের প্রতিষেধক হিসেবে বিবেচিত কোনো জিনিসের বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না বলে জানান অধ্যাপক সায়েদুর রহমান। বলেন, ‘খাদ্যদ্রব্য বা যে কোনো জিনিস যখন রোগ সারাতে সক্ষম হবে, তখন একে ওষুধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তখন কেউ সামাজিক যোগাযোগ বা কোনো মাধ্যমে এ নিয়ে বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন না। বাংলাদেশে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট আইন আছে। প্রযুক্তির সহায়তায় খুব সহজে এ বিজ্ঞাপন বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হবে। খুব দ্রুতই এ নিয়ে দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখতে পাবেন।’

সুনিদির্ষ্টি রেফারেল সিস্টেম না থাকায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখাতে গিয়ে রোগীদের খরচ বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে এখনো পেশাগত ফি নির্ধারিত হয়নি। দরিদ্র রোগীর স্বার্থে চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। তবে মূল সমস্যা হলো, রেফারেল সিস্টেম না থাকায় রোগীরা সরাসরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছেন। এতে খরচ অকারণে বেড়ে যাচ্ছে।

বিশেষ সহকারী বলেন, ওষুধের দাম নির্ধারণে সরকার কোনো ধরনের হোস্টাইল অবস্থান নিতে চায় না। তবে বিশ্বমানের অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে, যুক্তি ও ন্যায়ঙ্গত মুনাফার সুযোগ রেখে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে রোগীদের জন্য দাম নির্ধারণ করা হবে।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক