১৪ অগাস্ট, ২০২৫ ০৪:৩২ পিএম

শেবাচিমে নিরাপত্তা না দিলে শনিবার থেকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

শেবাচিমে নিরাপত্তা না দিলে শনিবার থেকে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা না দিলে শনিবার (১৬ আগস্ট) থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও  কর্মচারীরা। আজ বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্যখাত সংস্কার আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়ার পর এই ঘোষণা দেন তারা।

স্বাস্থ্যখাত সংস্কারের দাবিতে ছাত্র-জনতার ব্যানারে তিন দফার আন্দোলন শুরু হয় গত ২৮ জুলাই। ৭ আগষ্ট থেকে প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা নগরের নথূল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। এতে বিভাগের ছয় জেলার সঙ্গে রাজাধনীর সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। গত ১১ আগস্ট থেকে দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন আন্দোলনের সমর্থনে শেবাচিম হাসপাতালের প্রধান ফটকে আমরন অনশন শুরু করে।

আন্দোলনকে ঘিরে শেবাচিম হাসপাতাল নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন চিকিৎসক, নার্সসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বলছেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নানাভাবে চিকিৎসকদের হয়রানি ও হেনস্তা করছেন।

এদিকে স্বাস্থ্যখাত সংস্কারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আজ দুপুরে নার্স, টেকনোলজিস্ট এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বিক্ষোভ মিছিল শেষে অনশনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মারধর করে বের করে দেয়।

তবে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, ‘চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ সবার উপরে যে হামলা, শারিরীক এবং মানসিক নির্যাতন, তার সমাধান চাই। আমরা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা চাই।’

তারা বলেন, ‘নিরাপত্তা না দেওয়া হলে আমরা শনিবার থেকে কর্মবিরতিতে যাব। সে জন্য যে ঘটনার সৃষ্টি হবে তাতে এরা দায়ী থাকবে।’

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মো. জোনায়েদ বিন জাকির সিদ্দিকী বলেন, অবশ্যই বরিশাল মেডিকেলের কিছু বিষয় সংস্কার প্রয়োজন। এ দাবির সাথে একমত। কিন্তু সম্প্রতি যেটা শুরু হয়—১০-২০ জনের একটা গ্রুপ এসে হঠাৎ করে একজন চিকিৎসককে বলে, আপনি কী করছেন? আপনি এটা কেন করলেন?’

তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালের যে পরিমাণ রোগী আউটডোর বা ইনডোর থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরত যান, তাদের কিন্তু কোনো রূপ কথা বলা হয় না। কিন্তু যখনই একজন মারা যায় অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে, তখন ২০-২৫ জন বলেন যে—কেন মারা গেল? তখন ডাক্তারকে অনেকগুলো অযাচিত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়, যার কোনো প্রকার প্রয়োজন নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সংস্কার হোক। অবশ্যই বরিশাল মেডিকেলের অপ্রতুলতা রয়েছে। কিন্তু এটির জন্য তো একটি স্থান আছে।’

ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সৌমিক আহমেদ বলেন, ‘আমরা আসলে আজ দুইদিন অপেক্ষা করছি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সেবা দিয়েছি। কিন্তু কেউ একজন মারা গেলে ডাক্তারদের উপর চড়াও হয়। এ অবস্থায় আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমরা নিরাপত্তা না পেলে তো জয়েন করতে পারি না।’

এর আগে বুধবার এক বিবৃতিতে কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা দিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অন্যথায় কর্মবিরতিতে যাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তারা।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত