১৩ অগাস্ট, ২০২৫ ০৬:৩৯ পিএম

ছয় মাসে ইডিসিএলের অভূতপূর্ব অর্জন, দাম কমেছে অত্যাবশ্যকীয় ৩৩ ওষুধের

ছয় মাসে ইডিসিএলের অভূতপূর্ব অর্জন, দাম কমেছে অত্যাবশ্যকীয় ৩৩ ওষুধের
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন ইডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামাদ মৃধা। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত ছয় মাসে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) অভূতপূর্ব অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আ. সামাদ মৃধা। তিনি জানিয়েছেন, নানা তৎপরতায় ইতোমধ্যে ৩৩টি ওষুধের দাম কমাতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে রয়েছে ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ওরস্যালাইন ও ইনজেকশন।

বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইডিসিএলের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইডিসিএলের বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়ে সামাদ মৃধা বলেন, ‘নানা তৎপরতায় ইতোমধ্যে ৩৩টি ওষুধের দাম কমানো হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেসব ওষুধের দাম কমানো হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে—ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, ওরস্যালাইন ও ইনজেকশনসহ মোট ৩৩ ধরনের ওষুধ।’

ইডিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘এসব ওষুধের দাম আগের তুলনায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। দিকনির্দেশনাগুলো অটুট থাকলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিকাংশ পণ্যের দাম কমিয়ে ফেলতে পারবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগে ওষুধের কাঁচামাল (এপিআই) ক্রয় নীতিমালা ছিল অস্বচ্ছ, আমি মানসম্মত কাঁচামাল ন্যায়সঙ্গত মূল্যে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ক্রয় করছি। অদক্ষ ও অপ্রয়োজনীয় জনবল কমিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করতেও সক্ষম হয়েছি। এতে উৎপাদন খরচ কমে এসেছে।’

সামাদ মৃধা বলেন, ‘উৎপাদন বাড়াতে এবং প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, দুর্নীতি দমন এবং প্রায় ৭০০ অপ্রয়োজনীয় কর্মচারী ছাঁটাই করার মতো বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৫৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ। কাঁচামাল কেনার দরপত্র উন্মুক্ত করার কারণে প্রতি মাসে প্রায় ১৮ কোটি টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আরও একটি সুসংবাদ শেয়ার করতে চাই, সেটি হচ্ছে ইনজেকশনের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করানোর (ইনট্রাভেনাস ফ্লুইড) স্যালাইনের প্ল্যান্টটি আমরা কার্যকর করে ফেলেছি। পরীক্ষামূলক চালনা দিয়েছি। প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন পেলেই সাধারণ স্যালাইন ও কলেরা স্যালাইন উৎপাদনে যাবে এ কারখানা। ১০-১৫ দিনের মধ্যে প্রথমবারের মতো নরমাল স্যালাইন ও কলেরা স্যালাইন উৎপাদন করে সরকারের চাহিদা পূরণ করতে পারবো। প্রয়োজনে অতিরিক্ত অংশ কিনে আরো বেশি আইটেম তৈরি করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন দুটো কারখানা হচ্ছে, একটি টিকা উৎপাদনমুখী জৈবপ্রযুক্তি কারখানা এবং অন্যটি ঢাকার পাশে সিরাজদিখানে বিদ্যমান কারখানা, যা যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) নির্দেশিকা অনুযায়ী তৈরি হতে যাচ্ছে। এই কারখানা দুটো বাংলাদেশকে নিম্ন আয়ের দেশ এবং মাধ্যম আয়ের দেশের মধ্যে শুধুমাত্র ওষুধ না, টিকা সরবরাহ এমনকি জৈব পণ্য উৎপাদন করতেও সক্ষম করবে। ইতোমধ্যে ওষুধ শিল্পের প্রচলিত পণ্য থেকে জৈব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। আমরা এসব পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই ইডিসিএল শুধুমাত্র ঐতিহ্যবাহী ওষুধ নয়, ভবিষ্যতে সব ধরনের ওষুধ তৈরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

নিজেদের কারখানায় উৎপাদন বাড়িয়ে সরকারি চাহিদার ৭০ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান ইডিসিএল ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

অত্যাবশ্যক নয়—বেশিরভাগ সময়ে ইডিসিএল এমন ওষুধই তৈরি করে আসছিল বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন সামাদ মৃধা। বলেন, ‘বিগত প্রশাসন ও সরকার অনিচ্ছার কারণে ইডিসিএলকে কখনোই কার্যকর উপায়ে ব্যবহার করতে পারেনি। আমি নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানটির যে মূল উদ্দেশ্য, সেটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে শুধুমাত্র অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ তৈরিতে মনোনিবেশ করেছি।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে মানসম্মত অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ হচ্ছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য, এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য সুরক্ষিত হলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে, এটিই হচ্ছে আমাদের আসল লাভ। একটি ওষুধ থেকে তিন টাকা লাভ করার চেয়ে একজন মানুষ যদি সুস্থ হয় তাহলে এটিই হবে ইডিসিএলের মূল লাভ। এজন্য অত্যাবশ্যক নয়, এমন ওষুধের টোল উৎপাদনের উপর নির্ভরতা কমিয়েছি। পাশাপাশি কর্মীদের ওভারটাইম কমিয়েছি। এতে অযাচিত খরচ কমেছে।’

এডিসিএল তৃতীয় প্রজন্মের গর্ভনিরোধক বড়ি উৎপাদন শুরু করেছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি। বলেন, ‘শুধুমাত্র প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা পূরণ হলে সরবরাহ শুরু হবে। এতে সরকারের মূল্য সাশ্রয় হবে, সহজলভ্য হবে, নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ হবে এবং সরবরাহে বিঘ্নতা কমে যাবে।’

এ ছাড়া গত ছয় মাসে কর্মীদের উৎসাহ দিয়ে কর্মমুখী করার পাশাপাশি শ্রমিক-কর্মচারী এবং ইউনিয়নের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধিতে নজরদারি বাড়ানো এবং সরকারি সরবরাহ চেইন উন্নত করা হয়েছে বলে দাবি করেন সামাদ মৃধা।

তিনি আরও বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে ছয় মাসে কখনোই এই ধরনের উন্নয়ন সম্ভব হয়নি। সরকার আমাদের বলেছে, স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া করতে, আমরা সকলকে দরপত্রে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ক্রয়ের স্বচ্ছতা ফিরিয়ে এনেছি। এই কোম্পানির গত ৬০ বছরের যে কোনো ছয় মাসে খেয়াল করলে দেখা যাবে, কোম্পানি যে পরিমাণ সহযোগিতা সরকারকে করেছে, তা আমরা এই ছয় মাসে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছি।’

‘তাই আপনারা আমাদের সাথে থাকুন, আমরা স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতিমুক্তভাবে সরকারকে ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে একটি মানসম্মত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবো। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে মানুষের অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে, ইনশাল্লাহ’—যোগ করেন তিনি।

আ. সামাদ মৃধা বলেন, ‘আমরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা এবং সরকারি চাহিদা অনুযায়ী, পণ্যের ধরন সাজাতে চেষ্টা করছি। ফলে সত্যিকারের মূল ওষুধগুলো দ্রুত উৎপাদন হাসিল করবো এবং পর্যায়ক্রমে সরকারের সম্পূর্ণ চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবো।’

এনএআর/এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি

ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত