ডা. মো. আরমান হোসেন রনি
চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন, জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, শেরেবাংলা নগর, ঢাকা।
২৪ জুলাই, ২০২৫ ০১:০৫ পিএম
পোড়া রোগীর চোখের যত্নে করণীয়
আগুনে পোড়া রোগীর জন্য চোখের যত্ন অত্যন্ত জরুরি। আগুনের তাপে, ধোঁয়ায়, রাসায়নিক পদার্থে কিংবা বিস্ফোরণে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই ধরনের ইনজুরি চোখের কর্নিয়া, কনজাঙ্কটিভা এবং আশপাশের টিস্যুতে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। সঠিক ও দ্রুত চিকিৎসা না পেলে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।
নিচে আগুনে পোড়া রোগীর চোখের যত্নে করণীয় তুলে ধরা হলো—
১. তাৎক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিত করুন
পোড়ার সাথে সাথে চোখে পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে হবে।
কোনোভাবেই চোখে বরফ, লেবু, দুধ বা ঘরোয়া কোনো উপাদান প্রয়োগ করবেন না।
২. চোখ না ঘষা বা না চাপা
অনেক সময় পোড়ার পরে চোখে চুলকানি বা ব্যথা হতে পারে। কিন্তু একদম ঘষা যাবে না। এতে কর্নিয়াতে স্ক্র্যাচ পড়ে বড় জটিলতা হতে পারে।
৩. চোখ ঢেকে রাখা
পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত গজ বা আই প্যাড দিয়ে চোখ ঢেকে রাখতে হবে যাতে ধুলো, ধোঁয়া বা ব্যাকটেরিয়া না ঢোকে।
৪. চোখের ডাক্তার বা চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ
খুব দ্রুত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে রোগীকে নিয়ে যেতে হবে। প্রাথমিক পোড়ার চিকিৎসা যত তাড়াতাড়ি হবে, চোখের ক্ষতি তত কম হবে।
৫. প্রয়োজনে চোখের ড্রপ ও ওষুধ ব্যবহার
ডাক্তার চোখের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ, লুব্রিকেন্ট জেল বা স্টেরয়েড দিতে পারেন। রোগী যেন নিজের মতো করে কিছু ব্যবহার না করে।
৬. ধোঁয়া বা রাসায়নিক থেকে দূরে রাখা
রোগীকে এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে ধোঁয়া বা রাসায়নিক গ্যাস নেই। এসব পুনরায় চোখের ক্ষতি বাড়াতে পারে।
৭. জলপাই তেল বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারে সতর্কতা
অনেকেই ঘরোয়া পদ্ধতিতে এসব জিনিস ব্যবহার করেন, কিন্তু চোখের আশপাশে ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের অনুমতি নেওয়া উচিত।
৮. দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষণ ও ফলোআপ
আগুনে পোড়ার পর চোখে জটিলতা ধীরে ধীরে দেখা দিতে পারে, যেমন কর্নিয়ায় ঘা, স্কার বা সেকেন্ডারি ইনফেকশন। তাই চিকিৎসকের নিয়মিত ফলোআপ খুব গুরুত্বপূর্ণ।
যে লক্ষণগুলো দেখলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা নিতে হবে
চোখে তীব্র ব্যথা বা জ্বালাপোড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া ও ফুলে যাওয়া, চোখ থেকে পানি বা পুঁজ পড়া, চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টি হ্রাস পাওয়া এবং আলোতে তাকাতে অসুবিধা হওয়া।
এসআইএস/