আগের কমিটি স্বাচিপ ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ
ড্যাব সমর্থিত চিকিৎসকদের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের নতুন কমিটি
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) সমর্থিত চিকিৎসকদের নেতৃত্বে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। গত বছরের ৭ জুলাই গঠিত কমিটিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ তুলেছেন তারা। একই সঙ্গে তা প্রত্যাখ্যান করে নতুন এই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত দুই সদস্যের কমিটিতে আহ্বায়ক হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) নিউরোসার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের (এসএসএমসি) শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সফিকুল ইসলামকে করা হয়েছে সদস্য সচিব। সম্প্রতি সংগঠনটির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ১৭ জুন বিগত কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আ ম সেলিম রেজা ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ব্যক্তিগত অপারগতার কারণে তারা দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ওই সময়ে এর নেতৃত্বে ছিলেন অধ্যাপক ডা. আ ম সেলিম রেজা ও অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম মুন্না। উভয়েই ছিলেন আওয়ামীপন্থী স্বাচিপের নেতা।
পরে গত বছর তাদের কমিটি থেকে বেরিয়ে আসে একটি পক্ষ। ওই বছর ৭ জুলাই তৎকালীন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেনকে আহ্বায়ক করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। তিনি বর্তমানে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে কর্মরত। কমিটির সদস্য সচিব করা হয় টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. উম্মে তানিয়া নাসরিনকে। চলতি বছরের ৫ মে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলামকে অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এবার গত জুন মাসে ডা. জাহিদ রায়হান ও ডা. মো. সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আরেকটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির বিভাজন প্রকাশ্যে এসেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক ডা. মো. জাহিদ রায়হান আজ বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) বিকেলে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আওয়ামী সমর্থিত চিকিৎসকদের হাত ধরে ২০০৯ সালে স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়। প্রথম থেকে আমি এর সাথে ছিলাম। কিন্তু জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী হওয়ায় পরবর্তীতে আমাকে আর ডাকা হতো না।’
ডা. নেয়ামত ও তানিয়া নাসরিনকে স্বাচিপপন্থী বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পরবর্তীতে ডা. নেয়ামত হোসেন ও ডা. তানিয়া নাসরিন অ্যাসোসিয়েশনের কয়েকটি কাজের জন্য দায়িত্ব নিয়ে সংগঠন দখল করে ফেলেন। আমরা যাচাই করার জন্য আগের কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সেলিম রেজা ও মহাসচিব অধ্যাপক মুন্নার সঙ্গে যোগাযোগ করে জানতে পারি, তারা কাউকে সংগঠনের দায়িত্ব দেননি। সে সময়ে আমরা অ্যাসোসিয়েশনের দায়িত্ব নিতে চাইলে গত ১৬ জুন দু’জনে আমাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।’
ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘আমরা সামনে পূর্ণ কমিটি গঠন করবো। ক্যাডার সার্ভিসের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিরাও এখানে যুক্ত হতে পারেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের আরেক অংশের আহ্বায়ক ডা. মোহাম্মদ নেয়ামত হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আওয়ামী আমলের শুরুতে সংগঠনটি গঠিত হয়। ঘরে বসে একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্রে দুই বছর পরপর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন কোনো নির্বাচন হয়নি। তারা রাজনৈতিকভাবে এটিকে ব্যবহার করেন।’
‘পরে ২০২৪ সালে প্রতিটি বিসিএস ব্যাচের নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে আমরা কমিটি গঠন করি। একই সাথে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অবৈধ হওয়ায় আগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়’—যোগ করেন তিনি।
নিজেদের স্বাচিপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ অস্বীকার করেন ডা. নেয়ামত হোসেন। রাজনৈতিক সংগঠনে যুক্ত থাকা চাকরি আইনের বড় লঙ্ঘন জানিয়ে তিনি বলেন, ডা. জাহিদ রায়হান বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) আজীবন সদস্য। এ ছাড়া গত বছর জুলাইয়ের শুরুতে করা কমিটিতে ডা. জাহিদ রায়হান কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবে আছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘আমি ২০০৬ সালে ড্যাবের আজীবন সদস্য হয়েছিলাম। তবে ২০০৭ সালে ড্যাব কার্যালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের পর সে ডকুমেন্ট হারিয়ে গেছে। আমি নতুন করে সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছি। তবে ড্যাব বা এ ধরনের সংগঠনে যুক্ত থাকতে কোনো বিধি-নিষেধ নেই। এটি জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী চিকিৎসকদের সংগঠন। আইনগতভাবে ড্যাব বিএনপির অঙ্গ-সংগঠন নয়।’
ডা. নেয়ামত ও ডা. মির্জা তাইয়েবুলের নেতৃত্বে কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য থাকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, ‘গত বছরের অক্টোবরে আমার অনুমতি ছাড়া আমাকে কোর কমিটির সদস্য করা হয়। আমি শক্তভাবে এর আপত্তি করে তাদেরকে আমার নাম প্রত্যাহার করতে বলেছি। সেটি তারা করেননি।’
এনএআর/এমইউ
-
২৫ অগাস্ট, ২০২৪