গাজায় ৮ চিকিৎসকসহ ১৫ স্বাস্থ্যকর্মীকে গুলি করে হত্যা ইসরায়েলের
মেডিভয়েস রিপোর্ট: দক্ষিণ গাজার রাফাহ এলাকায় আটজন চিকিৎসকসহ ১৫ স্বাস্থ্যকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ২৩ মার্চ রাতে জরুরি বিভাগের ওই কর্মীদের হত্যা করা হয়। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী স্বীকার করেছে যে তাদের সৈন্যরা ভুল করে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এদিকে ১৫ জন স্বাস্থ্যকর্মীকে হত্যার হত্যার নতুন ভিডিও প্রকাশের পর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর বিবিসি, আল জাজিরার।
খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (পিআরসিএস) অ্যাম্বুলেন্স, জাতিসংঘের একটি গাড়ি এবং গাজা সিভিল ডিফেন্সের একটি অগ্নিনির্বাপক ট্রাকে নিয়ে গঠিত একটি সহায়তা কনভয় রাফাহর কাছে হামলার শিকার হয়।
ইসরায়েল প্রথমে দাবি করেছিল, হেডলাইট বা কোনো ধরনের আলো ছাড়াই অন্ধকারে ‘সন্দেহজনকভাবে’ গাড়ি বহর এগিয়ে আসার কারণে সৈন্যরা গুলি চালিয়েছিল। যানবাহনের চলাচলের আগে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়নি বা তাদের সম্মতি নেওয়া হয়নি।
কিন্তু নিহত প্যারামেডিকদের একজনের মোবাইলের ফুটেজ খুঁজে দেখা গেছে, আহতদের সহায়তা দেওয়ার সময় যানবাহনগুলোতে আলো জ্বলছিল।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে ছয়জন চিকিৎসক হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু তারা এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। তারা এটাও স্বীকার করেছে যে, সৈন্যরা যখন গুলি চালায় তখন জরুরি বিভাগের ওই কর্মীরা নিরস্ত্র ছিল।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ভোর হওয়ার আগ মুহূর্তে কনভয়ের গাড়িগুলো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এরপর কোনও ধরনের পূর্বসংকেত ছাড়াই তাদের ওপর গুলি ছোড়া শুরু হয়।
ভিডিওটি পাঁচ মিনিটেরও বেশি সময় ধরে চলে। এতে রেফাত রাদওয়ান নামে এক প্যারামেডিককে শেষ প্রার্থনা করতে শোনা যায়। এরপর ইসরায়েলি সেনাদের কণ্ঠস্বর শোনা যায়, যারা গাড়িগুলোর দিকে এগিয়ে আসছিল।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গাড়িগুলোর গায়ে স্পষ্টভাবে চিকিৎসা সংস্থার চিহ্ন ছিল এবং প্যারামেডিকরা প্রতিফলক চিহ্নযুক্ত উজ্জ্বল পোশাক পরিহিত ছিলেন।
আইডিএফ কর্মকর্তার দাবি, নিহতদের মরদেহ বন্য প্রাণীর হাত থেকে রক্ষার জন্য বালুর নিচে পুঁতে রাখা হয়। পরদিন রাস্তা খালি করতে গাড়িগুলোকে সরিয়ে ফেলা হয়।
ঘটনাস্থল চিহ্নিত ও নিরাপদ প্রবেশাধিকার না থাকায় জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এক সপ্তাহ পরে মরদেহ উদ্ধার করে। তখনই উদ্ধারকারীরা রেফাত রাদওয়ানের মোবাইল ফোন পান, যেখানে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ ছিল।
এর আগে বিবিসিকে এক বেঁচে যাওয়া প্যারামেডিক জানিয়েছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সগুলো পরিষ্কারভাবে দেখা যাচ্ছিল এবং সেগুলোর ভেতরে ও বাইরে আলো জ্বলছিল এবং নিহতদের কেউই কোনও সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
প্যালেস্টাইন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-পিআরসিএসসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংগঠন এ ঘটনার স্বাধীন তদন্ত দাবি করেছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তরের প্রধান জোনাথন হুইটল জানিয়েছেন, পিআরসিএসের আট চিকিৎসক, সিভিল ডিফেন্সের ছয় সদস্য ও জাতিসংঘের এক কর্মীর লাশ একটি গণকবরে পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) জাতিসংঘে পিআরসিএসের প্রেসিডেন্ট ড. ইউনিস আল খাতিব বলেন, সংস্থাটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিহত দলের একজন সদস্যের কণ্ঠস্বর শুনেছি এবং তার ফোনটি তার লাশের সঙ্গে পাওয়া গেছে এবং তিনি পুরো ঘটনাটি রেকর্ড করেছেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে তার শেষ কথা ছিল, ‘আমাকে ক্ষমা করে দাও মা। আমি শুধু মানুষকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। আমি জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলাম।’
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য রেড ক্রসের (আইএফআরসি) স্থায়ী পর্যবেক্ষক ডিলান উইন্ডার বলেন, গাজায় দায়িত্ব পালনকালে ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আট চিকিৎসকের মৃত্যুতে তারা ক্ষুব্ধ।
‘তারা ছিল মানবতাবাদী। তারা এমন প্রতীক পরেছিল যা রক্ষা করা উচিত ছিল, তারা (ইসরায়েলি বাহিনী) তা করেনি’—বলেন উইন্ডার।
যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত ১৮ মার্চ ইসরায়েল গাজায় পুনরায় তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু এবং নতুন করে স্থল আক্রমণ শুরু করার পাঁচদিন পর গণহত্যার ঘটনাটি ঘটে।
গাজার হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় সেখানে এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ৬৬৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও এক লাখ ১৫ হাজার ২২৫ জন। গাজাকে রীতিমতো এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে ইসরায়েল।
এমইউ/
বরিশালে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় উদ্বেগ
রোগীর চাপের মধ্যেও সেবা দেন চিকিৎসক- স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাদের ওপর হামলা উদ্বেগজনক: ডা. রফিকুল ইসলাম
বরিশালে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় উদ্বেগ
রোগীর চাপের মধ্যেও সেবা দেন চিকিৎসক- স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাদের ওপর হামলা উদ্বেগজনক: ডা. রফিকুল ইসলাম
বরিশালে চিকিৎসক নিগ্রহের ঘটনায় উদ্বেগ
রোগীর চাপের মধ্যেও সেবা দেন চিকিৎসক- স্বাস্থ্যকর্মীরা, তাদের ওপর হামলা উদ্বেগজনক: ডা. রফিকুল ইসলাম
সাত কর্মদিবসের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহার
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা নবম গ্রেডের বেসিক
মাসুদ কামালের প্রতি ড্যাবের হুঁশিয়ারি
ক্ষমা না চাইলে আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে প্রস্তুতি নিন