ধর্ষণ: সুস্থতা নিশ্চিতে ভুক্তভোগীর মানসিক চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ধর্ষনের শিকার ব্যক্তিরা নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগলেও তারা চিকিৎসার জন্য আসেন না। এসব ভুক্তভোগীর মধ্যে মানসিক চিকিৎসা নেওয়ার হার এক শতাংশের কম। ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে ১৮.৩% মানুষ মানসিক রোগী।
রোববার (১৬ মার্চ) জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ‘ধর্ষণ: শিশু-কিশোর মনে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ প্রভাব’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ফর চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডলসেন্ট মেন্টাল হেলথের সভাপতি অধ্যাপক ডা. সালাহ্উদ্দিন কাউসার বিপ্লব বলেন, ‘ধর্ষণের শিকার ব্যক্তি সাধারণত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে আসেন না, যতদিন না তাদের ধর্ষণ পরবর্তী মানসিক সমস্যার শুরু হয়। সে ক্ষেত্রেও দেখা যায় যে, তারা তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনাটি একেবারেই প্রকাশ করেন না বা শুরুতে প্রকাশ করতে চান না। পেশাগত দায়িত্ব থেকে আমাদের উচিত জনসচেতনতা তৈরি করা। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের ১৮.৩% মানুষ মানসিক রোগী। তাই অপরাধী মানেই মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত এই মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’
ডা. মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, ‘মানুষের মাঝে অনুকরণের প্রবণতা থাকে। যার ফলশ্রুতিতে দেখা যায় ধর্ষণের ধরণ বা ঘটনার রগরগে বর্ণনাতে সম্ভাব্য অপরাধীরা উৎসাহিত হয়। তাই অপরাধের বর্ণনাকে প্রাধান্য না দিয়ে অপরাধী যেন শাস্তি পায়, সে ব্যাপারে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।’
অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা ও জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমে ধর্ষণের খবর আসা উচিত বলে মন্তব্য করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ডা. মো. মাহবুবর রাহমান বলেন, ‘তবে তা কোনোমতেই যেন মুখরোচক সংবাদে পরিণত না হয়। সাধারণত দেখা যায়, যারা এ ধরনের নিপীড়নের মধ্যে দিয়ে যায়, তাদের পরবর্তীতে বিষণ্ণতা, পিটিএসডি, রেপ ট্রমা সিনড্রোম ইত্যাদি মানসিক সমস্যায় ভোগেন।’
সম্মেলনে বিএমইউর শিশু-কিশোর মনোরোগবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহজাবিন মোর্শেদ বলেন, ‘শুধু মেয়েরাই নয়, অনেক ছেলে শিশুরাও তার বন্ধু, শিক্ষক বা আপনজন দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঘটনা আমাদের কাছে আসে না।’
অপরাধীকে অপরাধের প্রকৃতি এবং শাস্তির ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি দণ্ডবিধির সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করা যাবে বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন চাইল্ড অ্যান্ড অ্যাডলসেন্ট মেন্টাল হেলথের সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. রাহানুল ইসলাম। বলেন, ‘ধর্ষণের ক্ষেত্রে অপরাধী এবং ভিক্টিমের মধ্যকার সম্পর্কের চেয়ে সংগঠিত অপরাধের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ কোনোভাবে যখন প্রচার মাধ্যমে সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তখন আন্তঃসম্পর্কগুলোতে তার প্রভাব পড়ে এবং এক্ষেত্রে অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।’
ধর্ষণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার মূল কারণ বিচারহীনতা উল্লেখ করে চাইল্ড এন্ড এডোলেসেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. মাহাবুবা রহমান বলেন, ‘এজন্য আমাদের আগে সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। রেপ কালচার, যেমন ব্যাড টাচ (খারাপ স্পর্শ) ধর্ষণের ঘটনাকে প্ররোচিত করে।’
চাইল্ড এন্ড এডোলোসেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. নুসরাত জাহান তানজিলা বলেন, ‘রেপ ভিক্টিম ধর্ষণ পরবর্তী সময়ে নানা রকম মানসিক সমস্যা যেমন বিষণ্ণতা, পিটিএসডি, রেপ ট্রমা সিন্ড্রোমসহ নানা রকম মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়। বিষয়গুলো ভীষণভাবে অবহেলিত হওয়ায় এসব ঘটনা অগোচরে থেকে যায়। আজকের প্রেস কনফারেন্সের উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষকে জানানো যে, আমরা (মনোরোগবিশেষজ্ঞগণ) তাদের এই মানসিক স্বাস্থ্যের সহায়তা প্রদানে সর্বদা প্রস্তুত।’
এসএইচবি/এমইউ