ছৈয়দ আহমদ তানশীর উদ্দীন
নার্স ও পুষ্টিবিদ,
বিএসসি ইন নার্সিং (চবি), এমপিএইচ ইন নিউট্রিশন (ইবি)।
০৭ মার্চ, ২০২৫ ০৩:০৫ পিএম
রোজায় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে বাড়তি সতর্কতা
চলছে রোজার মাস, ইসলাম ধর্মালম্বীরা ভাবগাম্ভীর্যের সাথে এ মাসে সিয়াম সাধনা পালন করেন। তবে রোজায় পানাহারে যেমন বিধিনিষেধ রয়েছে, পাশাপাশি রোগীদের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বিবেচনায় স্বাস্থ্য বিধিতেও কিছু সতর্কতা রয়েছে।
যেসব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করলে রোজা ভাঙবে
১. রোজা রেখে সাপোজিটরি (পায়খানার রাস্তায় দেওয়া ওষুধ) দেওয়া হলে।
২. রোজা রেখে ইনজেকশন স্যালাইন নিলে। যেমন—৫ শতাংশ ডিএনএস, নরমাল স্যালাইন, কলেরা স্যালাইন ও গ্লুকোজ স্যালাইন।
৩. রক্ত নিলে।
৪. এন্ডোস্কোপি করানো হলে বা গলায় নল দিয়ে পরীক্ষা করলে।
৫. নাকে খাবারের নল দিলে।
৬. পায়খানার রাস্তায় পরীক্ষা, যেমন—কোলনস্কোপি বা প্রক্টোস্কোপি করলে।
৭. ইনহেলার ব্যবহার করলে (এক্ষেত্রে দুই ধরণের বক্তব্য পাওয়া যায়, এক শ্রেণীর ফকীহদের মতে রোজা ভাঙবে না, তবে আরেক শ্রেণির মতে রোজা ভাঙবে। ব্যক্তিগতভাবে আমি রোজা ভেঙে যাবার মতামতকে অধিকতর যৌক্তিক মনে করি)।
৮. নেবুলাইজেশন করলে।
৯. নাকের ড্রপ দিলে।
১০. কানের ড্রপ দিলে (যদি কানের পর্দায় ছিদ্র থাকে)।
১১. ডায়ালাইসিস করলে এবং
১২. পায়খানার রাস্তায় এনেমা দিলে।
যেসব স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে রোজা ভাঙবে না
১. রক্ত দিলে।
২. রক্তের স্যাম্পল দিলে বা রক্ত পরীক্ষা করলে।
৩.মাংসে বা চামড়ায় কোনো ইনজেকশন দিলে বা ইনসুলিন দিলে।
৪. শিরায় ইনজেকশন দিলে। তবে ইনজেকশনে যদি ১০০ মিলি লিটারের চেয়ে বেশি পানি থাকে, তাহলে রোজা ভাঙতে পারে। এটি যুক্তরাজ্যের আল বালাগ একাডেমির মতামত। তাই অপ্রয়োজনে ইনজেকশন না নেওয়া উত্তম।
৫. চোখের ড্রপ দিলে। তবে ড্রপ দেওয়ার পর মুখে স্বাদ অনুভূত হলে সেই ক্ষেত্রে সেটা থুতু দিয়ে বের করতে হবে, তাই অনেক আলেম বলেন চোখের ড্রপ অপ্রয়োজনে না নিতে।
৬. ক্যাথেটার করানো হলে।
৭. ক্যানোলা করানো হলে।
৮. ডায়াবেটিস পরীক্ষা করলে।
৯. ভ্যাকসিন দিলে।
১০. মাসিকের রাস্তায় কোনো ওষুধ দিলে (আল বালাগ একাডেমির মত) এবং
১১. হিজামা করলে। তবে হাম্বলী মাজহাব ও অন্যান্য কিছু আলেমদের মতে এক্ষেত্রে রোজা ভাঙবে।
এসআই/এনএআর/