২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ০৮:৪২ পিএম

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেডিকেল দাওয়াহ সোসাইটির সেমিনার অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেডিকেল দাওয়াহ সোসাইটির সেমিনার অনুষ্ঠিত
ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মেডিকেল দাওয়াহ সোসাইটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে হয়ে গেল দাওয়াহ সেমিনার। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তরুণ ইসলামিক স্কলার, লেখক ও গবেষক ড. মিজানুর রহমান আজহারী।

উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশন অব ইসলামিক মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (ফিমা) ইসলামিক হসপিটাল কনসরটিয়ামের প্রধান ড. ইসহাক মাসুদ। বক্তব্যে ‘ইবাদতের পরিবেশবান্ধব হাসপাতাল’ বিষয়ে আলোচনা তুলে ধরেন মালয়েশিয়ার আল-ইসলামিয়া হাসপাতালের এই পরিচালক।

এর পর চিকিৎসায় নৈতিকতার চর্চা বিষয়ে বক্তব্য দেন মুন্নু মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ও ইবনে সিনা ট্রাস্টের পরিচালক ডা. মাহমুদ হোসাইন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মিজানুর রহমান আজহারী বলেন, চিকিৎসা একটি মহৎ পেশা। এর মাধ্যমে রোগীদের মধ্যে সত্যের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ অনেক বেশি।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা সরাসরি রোগীদেরকে সেবা দেওয়ার সুযোগ পান। যুদ্ধে আহতদের সেবা দিতে পারেন। আগুনে পোড়া রোগীদেরকে সেবা দিতে পারেন। দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, যাদের যাওয়ার আর জায়গা নেই, তাদের সেবা দিতে পারেন। যে কোনো রোগ বালাইয়ে আক্রান্তদের সেবা দিতে পারেন। যে কোনো পরিস্থিতিতে যখন একজন মানুষ অসুস্থ হয়, তখন তাকে আপনি সেবা দিতে পারছেন। এই সময় তার মনটা নরম থাকে, তার মধ্যে একটি অসতায়ত্ব কাজ করে। ওই সময় রোগীরা চিকিৎসকের দ্বারস্থ হয়, ফলে এই সময় তাদের মধ্যে ইসলামের কথা পৌঁছানো সহজ।’ 

আরোগ্যের ক্ষেত্রে রোগীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ড. মিজানুর রহমান আজহারী। বলেন, ‘মৌখিক দাওয়াতের চেয়ে প্রায়োগিক দাওয়াত বেশি কার্যকর। অর্থাৎ একজন চিকিৎসক তার চলনে-বলনে, ব্যক্তিত্বে, লেন-দেন, আচার-ব্যবহারের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করলে তা বেশি কাযর্কর। রোগীদের মধ্যে আচরণ দিয়ে যে বার্তা দেওয়া যায়, তা বেশি কার্যকর।’

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকরা যখন ইসলামী দাওয়াত দেন, তখন মানুষ তাদের সম্মান করে এবং তাদের কথার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়।

সেমিনার বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এথিক্স অ্যান্ড রিসার্চের (আইএমইআর) শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার হাদীসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, দুটি নিয়ামাতের ব্যাপারে মানুষ দারুণভাবে উদাসীন। এর একটি হলো স্বাস্থ্য, আরেকটি সময়।

ইসলামে স্বাস্থ্যকে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হযরত তালুতকে (আ.) আল্লাহ তা’লা রাজা হিসেবে ঘোষণা। নাগরিকরা বললেন, তিনি কীভাবে রাজা হবেন? অথচ আমাদের ঐশ্বর্য ভৈবব, প্রতিপত্তি আছে। আল্লাহ বললেন, তার একদিকে পড়াশোনা অন্যদিকে দৈহিক শক্তি রয়েছে।’ 

‘আমরা মনে করি, পরহেযগার ব্যক্তি খুব রুগ্ন হবেন, সারাক্ষণ নানা অসুস্থতার মধ্যে থাকবেন। এজন্য সুস্থ থাকার পরও অসুস্থতার ভান করি, যেন মানুষ বুঝতে পারে আমি পরহেযগার। এটা ভুল ধারণা’—যোগ করেন তিনি। 

এ প্রসঙ্গে একটি হাদীস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাসুল (স.) বলেছেন, তোমার ওপর শরীরের অধিকার রয়েছে। ক্লান্ত হলে বিশ্রাম দেওয়া আমার ওপর শরীরের অধিকার। অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেওয়া আমার ওপর শরীরের অধিকার।’ 

স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের বিকাশে রাসুলের (স.) নির্দেশনার কথা জানান ড. মো. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার। বলেন, ‘রাসুলে যুগান্তকারী হাদীস হলো, প্রত্যেক রোগের প্রতিকার রয়েছে। সাহাবারা বলতেন, রোগের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া কী তাকদীর পরিপন্থী কাজ নয়? জবাবে রাসুল (স.) বলেছেন, অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণই তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত।’

চিকিৎসা বিজ্ঞানে সম্পৃক্তরা দাওয়ার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে ড. গিয়াসউদ্দিন তালুকদার বলেন, বাণিজ্যিক স্বার্থে অলিখিত চুক্তির মাধ্যমে নিম্নমানের ওষুধ প্রেসক্রাইব করা মেডিকেল এথিক্সবিরুদ্ধ।

এ ছাড়া যে বিষয় জ্ঞান নেই, সে বিষয় প্রেসক্রাইব করা যাবে না এটাও মেডিকেল এথিক্সের সাথে সাংঘর্ষিক। এ প্রসঙ্গে কোরআনের নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ‘যে বিষয়ে জ্ঞান নেই, সে বিষয় তোমরা কথা বলো না।’ বরং এ বিষয়ে যিনি বিশেষজ্ঞ তার নিকট পাঠাতে হবে।

ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে ধর্ম অন্তরায় হতে পারে না, এমন একটি শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন মুসলিম অমুসলিমকে চিকিৎসা দিবে, একইভাবে একজন অমুসলিমও মুসলিমকে চিকিৎসা দিবে। এটি মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে স্বীকৃত। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় অপারেশন কোনোভাবেই মেডিকেল এথিক্স ও ইসলাম সমর্থন করে না।

তিনি আরও বলেন, ‘মেডিকেল এথিক্সকের পাশাপাশি চিকিৎসকদের ইসলামি দর্শনে শিক্ষা দেওয়া হলে চিকিৎসকরাই হবেন সকল প্রশ্নের সমাধান।’

সেমিনারে বক্তারা ইসলামের দাওয়াহ কার্যক্রমের গুরুত্ব এবং সমাজে সেগুলোর প্রভাব নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন। তারা বলেন, স্বাস্থ্যখাতে ইসলামের দাওয়াহ কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন, যেন সবার মধ্যে ইসলামিক মূল্যবোধ ও চিকিৎসা সেবার সঠিক ধারণা তৈরি হয়।

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. আতিয়ার রহমান।

দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশ নেন সারাদেশ থেকে আসা প্রায় তিন হাজার চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থী।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত