দিনাজপুর মেডিকেলে চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের পাচঁদফা দাবিতে বিক্ষোভ
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা বৃদ্ধি এবং ম্যাটস ও মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে পৃথকভাবে কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও পরিচালক বরাবর স্মারকলিপিও দিয়েছেন তাঁরা।
আজ বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কলেজ ক্যাম্পাসে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করে শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের চিকিৎসক সমাজ। মিছিল শেষে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাদেক আলী ও হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. ফজলুর রহমান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
চিকিৎসক-শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি হলো—
১. এমবিবিএস অথবা বিডিএস ব্যতীত কেউ ‘ডাক্তার’ লিখতে পারবেন না, বিএমডিসিকে বিবাদী করে এই আইনের বিরুদ্ধে করা রিট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রিধারীদের দিতে হবে। ২০১০ সাল থেকে হাসিনা সরকার মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) উত্তীর্ণদের বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া শুরু করে, এই ম্যাটসদের বিএমডিসি থেকে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
২. উন্নত বিশ্বের চিকিৎসা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ওটিসি ড্রাগ লিস্ট হালনাগাদ করতে হবে। এমবিবিএস ও বিডিএস ছাড়া অন্য কেউ ওটিসি তালিকার বাইরে ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারবেন না। রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ফার্মেসিগুলো ওটিসি তালিকার বাইরে কোনো ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।
৩. স্বাস্থ্য খাতে চিকিৎসকের সংকট নিরসনে দ্রুত ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে সকল শূন্য পদ পূরণ করতে হবে এবং আলাদা স্বাস্থ্য কমিশন গঠন করে পূর্বের মতো ষষ্ঠ গ্রেডে নিয়োগ দিতে হবে। প্রতিবছর চার-পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে স্বাস্থ্যখাতের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকদের বিসিএসে অংশগ্রহণের বয়সসীমা ৩৪ বছর করতে হবে।
৪. সকল মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও মানহীন সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করে দিতে হবে। ইতোমধ্যে পাশ করা ম্যাটস শিক্ষার্থীদের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) পদবী রহিত করে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুনভাবে ম্যাটসে ভর্তি বন্ধ করতে হবে। ম্যাটস শিক্ষার্থীদের প্যারামেডিক্সে প্রবেশ দিয়ে সম্পূর্ণভাবে ম্যাটস বন্ধ করতে হবে।
৫. চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে হবে।
এমআই/এনএআর/