১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫ ০৪:২১ পিএম

চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার নিন্স পরিচালকের

চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার নিন্স পরিচালকের
নিন্স ও পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ। ছবি: মেডিভয়েস

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিন্স) ও হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ। একই সাথে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতা অধ্যাপক ডা. গুরুদাস মন্ডলকে নিন্সে ফিরিয়ে আনার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি তাঁর।

আজ বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মেডিভয়েসকে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে সকালে ডা. গুরুদাস মন্ডলের নতুন বদলি আদেশ নিয়ে বিক্ষোভ করলে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে তিন চিকিৎসকসহ ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। নিন্স পরিচালকের অনুসারী ৪র্থ শ্রেণী ও আউটসোর্সিং কর্মচারীরা এই হামলা করে। এ ঘটনায় পরিচালক ও যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. বদরুল আলমের পদত্যাগের দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।

তবে হামলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসকরা আমার কক্ষে এসেছিলেন। পরে তারা চলে গিয়ে ৪০২ নম্বর কক্ষে মিটিং করছিলেন। এ সময় কিছু স্টাফ চতুর্থতলায় চিকিৎসকদের সভাস্থলে চলে যায়। সেখানে আরও কিছু স্টাফ ছিল। ওই স্টাফদের সাথে এই স্টাফদের ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। ডাক্তাররা আহত হননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি তো হাসপাতালে আছি, আহত একজন ডাক্তারকেও দেখলাম না। ডাক্তাররা রুমের ভিতরে ছিলেন। স্টাফদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে বাইরে। এতে বরং আমাদের স্টাফরা আহত হয়েছে।’

স্টাফরা নিজের অনুসারী কি-না, জানতে চাইলে নিন্স পরিচালক বলেন, ‘হাসপাতালে তৃতীয় শ্রেণীর-চতুর্থ শ্রেণীর সবাই কাজ করে। আমি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। এসব কর্মচারীদের নিয়োগ, সব আমার সময়েই হয়েছে। তারা আমাকে ভালোবাসে।’

পাবনা মেডিকেল কলেজে বদলি হওয়া ডা. গুরুদাস মন্ডলের নিন্সে ফেরানো নিয়ে কিছু জানেন না উল্লেখ করে অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘গুরুদাস মন্ডল নামে একজন ডাক্তার আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তিন মাস আগে ট্রান্সফার হয়ে পাবনা চলে গিয়েছেন। গতকাল আবার নিউরোসায়েন্সে তাঁর বদলি আদেশ হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি জানতাম না। এখন আদেশ কে দেয়, কে করে, বিষয়গুলো তো ডিফিকাল্ট। সেটা নিয়ে ড্যাব (ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশেন অব বাংলাদেশ) এবং এনডিএফের (ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম) ডাক্তাররা আমার কাছে আসেন। তারা বলেন, আপনি স্বৈরাচারকে পুনর্বাসন করছেন।’

চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও মেডিভয়েসের কাছে উল্লেখ করেন নিন্স পরিচালক। জানান, ‘আমার কক্ষে তাঁরা ভীষণ চিৎকার করছিলেন। আমিও বলছিলাম, চলে যাবো। আই হ্যাভ ডিসাইডেড টু লিভ। নতুন একটা বিল্ডিং হবে, এটা আমার হাতেই করা। উদ্বোধন হবে এপ্রিল মাসে। সেটা উদ্বোধন হলে আমি চলে যাবো। আমি এটা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমন সময়ে আমার রুমে পঞ্চাশেক স্টাফ প্রবেশ করে। তারা বলে, স্যার ওরা আপনাকে অপমান করে গেছে। কে অপমান করেছে বলেন, তাঁকে আমরা বের করে দিব।’

ডা. গুরুদাস মন্ডলকে নিন্সে ফিরিয়ে নিয়ে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক দীন মোহাম্মদ বলেন, ‘কিছু কিছু ছেলে আছে যারা আমার হাসপাতালের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে। ছাত্রদের জন্যই তিনি জীবনটা দিয়ে ফেলেন। সে যখন ট্রান্সফার হয়ে গেল, আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। এই হাসপাতালে স্বাচিপের সভাপতি, সেক্রেটারি, ট্রেজারারসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটি বহাল। কিন্তু এই ছেলেগুলো স্বাচিপের কিছুই না, লেজও না।’

তিনি বলেন, ‘ট্রান্সফারের পরে তিনি চলে গেলেন। ছাত্ররা আমার কাছে দল বেঁধে আসছে। আমি সপ্তাহখানেক পরে উপদেষ্টাকে বলেছিলাম। তিনি কাগজ দিয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু এরপর তিন মাসে আমি কিছু করিনি। কারণ, ড্যাব-এনডিএফ পছন্দ করছে না। আমি আর মুখ খুলিনি। এখন মন্ত্রণালয়ে ড্যাব-এনডিএফের প্রভাবে আমার সুযোগ সীমিত।’

চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে সেবা ব্যাহত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে নিন্স পরিচালক বলেন, ‘হাসপাতালের সেবা চলছে। বহির্বিভাগ, এমার্জেন্সি সবই চলছে। বহির্বিভাগের ডাক্তারদের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। ইনডোরের চিকিৎসকরা আন্দোলনের মধ্যে রয়েছেন।’

উল্লেখ্য, চার মাসে আগে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিন্স) ও হাসপাতাল থেকে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতা অধ্যাপক ডা. গুরুদাস মন্ডলকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। সম্প্রতি তাঁকে আবার নিন্সে ফিরিয়ে আনা হলে এ নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এই আদেশের প্রতিবাদ ও বাতিলের দাবিতে বুধবার সকালে হাসপাতালের ৪০২ নম্বরে কর্মসূচিতে মিলিত হন চিকিৎসকরা। সেখানে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আউটসোর্সিংয়ের লোকজন তাদের অবরুদ্ধ করে হামলা চালায়। এতে তিন চিকিৎসকসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত