‘বিসিএসে সবার বয়সসীমা বাড়লেও চিকিৎসকদের কেন নয়?’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার সাধারণ ক্যাডারে পরীক্ষার্থীদের বয়সসীমা সর্বশেষ ছিল ৩০ বছর, তখন চিকিৎসকদের জন্য ছিল ৩২ বছর। সাম্প্রতিককালে বিসিএসের সাধারণ ক্যাডারে পরীক্ষার্থীদের বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৩২ করা হলেও চিকিৎসকদের বয়সসীমা বাড়ানো হয়নি। এতে নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে এই সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট ডা. সিফাত সালেহ বলেন, স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩৪ বছর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে সবার জন্য ৩২ করা হলো কেন? এই প্রশ্ন সবার। ডাক্তার সমাজের কাছে বিষয়টি বোধগম্য নয়।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) মেডিভয়েসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ডা. সিফাত আরও বলেন, যারা নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে রয়েছেন তারা হয়তো বিষয়টি জানতেন না যে, চিকিৎসকদের জন্য আগে থেকেই বিসিএস পরীক্ষার বয়সসীমা দুই বছর বেশি ছিল। বিসিএস পরীক্ষার ক্ষেত্রে বয়সসীমা সবার দুই বছর বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু চিকিৎসকদের বয়সসীমা বৃদ্ধি পায়নি, বত্রিশই রয়ে গেছে। বিসিএস পরীক্ষায় চিকিৎসকদের দুই বছর বৃদ্ধি করা না হলে বৈষম্য করা হবে।
বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় আনার বিষয়ে ডা. সিফাত সালেহ বলেন, ‘আমরা প্রেস কনফারেন্স করেছি, সবার সাথে যোগাযোগ করেছি, আবেদন করেছি বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য। কিন্তু তারা বিষয়টি এখনো বিবেচনায় নেননি।
এ সময় বিসিএসে চিকিৎসকদের বয়সসীমা ৩৪ বছর করার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন ডা. সিফাত সালেহ। বলেন, বিসিএস পরীক্ষার সিলেবাসে বাংলা, গণিত ও সাধারণ জ্ঞানসহ আরও কিছু বিষয় থাকে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে, যেমন—একজন বাংলায় পড়ছে, তাদের বিসিএসের প্রস্তুতি হয়ে যাচ্ছে ইতোমধ্যেই, যারা গণিতে পড়ছে তাদেরও প্রস্তুতি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে যারা অন্যান্য বিষয়ে পড়ছেন, তাদের কিছু না কিছু উপকার হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান এমন একটি প্রফেশন, বিসিএসের রিটেনে যে ২০০ মার্কের পরীক্ষা হয়, সেখানে বা প্রিলিতেও অ্যানাটমি, ফিজিওলজি বা বায়োকেমিস্ট্রি থেকে কোনো প্রশ্ন আসে না।
তিনি আরও বলেন, স্বাভাবিকভাবেই সাধারণের জন্য এবং চিকিৎসকদের জন্য বিসিএসের কারিকুলাম সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ ছাড়া সাধারণত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাজুয়েশন করতে সময় লাগে চার বছর, সেখানে চিকিৎসকদের এমবিবিএসে পাঁচ বছর লেগে যায়। পরীক্ষার ফলাফল হতে ছয় মাস, তারপর এক বছর ইন্টার্নশিপ। সব মিলিয়ে চিকিৎসকদের গ্রাজুয়েশনে প্রায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় বছর সময় লেগে যায়।
‘ফলে সবার জন্য যখন দুই বছর বৃদ্ধি করেছে, সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকরাও দাবি করতেই পারে যে তাদের জন্য আগের মতো করে দুই বছর বৃদ্ধি করা হোক। আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যথাযথ বিবেচনায় নিবেন’—যোগ করেন এই রেসিডেন্ট চিকিৎসক।
টিআই/এনএআর/এমইউ
-
১৭ নভেম্বর, ২০২৫
-
৩০ এপ্রিল, ২০২৫
-
১৯ অক্টোবর, ২০২২