ডা. মো. তৌছিফুর রহমান
এমবিবিএস, এমডি (অনকোলজি)
সহকারী অধ্যাপক ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ ও ক্যান্সার সেন্টার, বগুড়া।
২১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০৪:৪১ পিএম
ক্যান্সারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কতটা মারাত্মক?
আমি ক্যান্সার চিকিৎসা সম্পর্কিত একটি প্রচলিত ভুল ধারণা বিষয়ে আলোচনা করব। ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং ক্যান্সারের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ক্যান্সারের থেকেও মারাত্মক, এই কথাটি আমাদের সমাজে অনেক বেশি বিদ্যমান রয়েছে। বিদ্যমান এই কথাটির কারণে অনেকেই চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হন না। যেমন- কেমো থেরাপির ক্ষেত্রে অনেকেই বলে থাকেন কেমোথেরাপি নিলে আমি আর বাঁচবো না বা কেমোথেরাপি নিলে আমার রোগী আর বাজবে না। কথাটি আসলে আংশিক সত্য।
কেমোথেরাপীর সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা
বিপরীতক্রমে এটা সম্পৃক্ত, ব্যাপারটি আমি যদি ব্যাখ্যা করে বলি তাহলে দেখুন স্টেজ ফোর লাংক ক্যান্সার সেক্ষেত্রে একজন মানুষের ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৯ পার্সেন্ট এবং সেটি যদি স্মলসের লাংক ক্যান্সার হয় সেটি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৫% আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতো। এখানে আমি একটা কথাই বলবো আপনি যদি দেরি করে একটা ক্যান্সার রোগীকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন তখন সেটা আমাদের কিয়রেটিভ ইন্টেন্টে কোন থেরাপি আর অবশিষ্ট থাকেনা। সেক্ষেত্রে কেমোথেরাপি দিয়েও দেখা যাচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে লাভ হয় না যেটা আমি বলেছি ১০০ জনে ৫ জন বা ১০০ জনের ৯ জন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাহলে এ সম্ভাবনা নিয়ে চিকিৎসা শুরু করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করে থাকেন ক্যান্সারের চিকিৎসা করানোর কারণেই তিনি খারাপ হয়ে গেলেন আসলে ব্যাপারটি তা নয় তার রোগের কারণে তিনি আসলে খারাপ হয়ে গেলেন বা অলরেডি তিনি গেছেন বা খারাপ হয়ে গেছেনই যেটা আমরা চিকিৎসার মাধ্যমে ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলাম বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু সেটা আসলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি ব্যাপারটি আসলে সেটা এক্ষেত্রে চিকিৎসা করার কারণে সাইড ইফেক্ট এর কারণে তিনি মারা গেছেন বা খারাপ হয়ে গেছেন ভালো হননি ব্যাপারটি আসলে সেরকম নয়।
কেমোথেরাপির কিছু সাইডএফেক্ট
ক্যান্সার চিকিৎসার অবশ্যই কিছু সাইডএফেক্ট রয়েছে বিশেষ করে কেমোথেরাপির কথা আমি বলব। কেমোথেরাপির সপ্তাহ পরে কমপ্লিট একটি ব্লাড কাউন্ট করে থাকি। কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট করার উদ্দেশ্য হচ্ছে, ব্লাডের একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ রক্তকণিকা নিউট্রোফিল ও প্লাটিলেট উপাদান অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়। । নিউট্রোফিল আমাদের শরীরে ফাস্ট লাইন ডিফেন্স হিসেবে কাজ করে বা শরীরের ইমিউনিটির ফাস্ট লাইন ডিফেন্স হিসেবে কাজ করে। নিউট্রোফিল ও প্লাটিলেট কমে গেলে প্রতিরোধমূলক হিসেবে অনেক সময় কেমোথেরাপের পর দিন একটি ইনজেকশন দেই। যে ইনজেকশন কে বলে ক্লেনোসাইট কলোনি স্ট্যামলোটিংফেক্টর ইনজেকশন, এটা দেয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে এক সপ্তাহ পরে যে রক্ত কণিকা কমে যায় সেই কমে যাওয়াকে প্রতিরোধ করা। এ ধরনের ক্ষেত্রে যদি কারো ক্ষেত্রে কমে যায় তাদের অস্বাভাবিক ডায়রিয়া হতে পারে জ্বর হতে পারে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একদম তলানিতে ঠেকতে পারে। এই তলানিতে যেয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে সেক্ষেত্রে তার শরীরে অন্যান্য কোন ইনফেকশন থাকলে বা অন্য কোন রোগ থাকলে সেটি প্রকট আকার ধারণ করে। সেই ইনফেকশন টা দ্রুত সিস্টেমিক ইনফেকশনের রূপ লাভ করে এবং তার জ্বর হয় এবং ফিফটি সেমিয়া বা সেফসিস হয়ে তিনি খারাপ হয়ে যেতে পারেন।
ক্যান্সার রোগ প্রতিরোধে রোগী ও স্বজনদের করণীয়
ক্যান্সার চিকিৎসা একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি এপ্রোচ, এখানে ক্যান্সারের ডক্টর যিনি তিনি তার একটি পার্ট রোগী এবং তার স্বজনরা অন্যান্য পার্ট। রোগী এবং তার স্বজনকে এ বিষয়ে নজর দিতে হবে যে কেমোথেরাপি পাওয়ার এক সপ্তাহ অন্তত রোগী বেড রেস্টে থাকবেন। রোগীর প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জিনিস গুলো দেয়া হয়েছে সেগুলো যাতে নিয়মঅনুযায়ী সঠিকভাবে খান, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি খান, শারীরিক কোন পরিশ্রম না করেন এবং যথাযথভাবে
ক্লেনোসাইট,ক্লোনিসওয়েটিং ফেক্টর ইনজেকশন যাতে ঠিকভাবে গ্রহণ করেন। ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়াবহ এবং সবচেয়ে মারাত্মক যেই কমপ্লিকেশন সেটি হচ্ছে যে ব্যাপারটি আমি বললাম এইটা, এটার মাধ্যমে সেফটিসি সিয়া হয়ে কখনো কখনো একজন রোগী মৃত্যুর মুখেও পতিত হতে পারে। তো এটা এড়ানো সম্ভব নয় তা নয় এটা এড়ানো সম্ভব সেক্ষেত্রে একজন চিকিৎসকের যেমন দায়িত্ব রয়েছে পরিবারের দায়িত্ব রয়েছে রোগীর দায়িত্ব রয়েছে তাদেরকে বুঝে শুনে এবং সঠিকভাবে নিয়ম মত যদি চলতে পারে তাহলে এটা অবশ্যই এড়ানো সম্ভব।
কেমোথেরাপির কিছু টক্সিসিটি
এছাড়া যত টক্সিসিটি রয়েছে সেগুলো আসলে খুবই সাধারণ কিছু টক্সিসিটি যেমন বমির ভাব হতে পারে ডায়রিয়া হতে পারে ঘুম কম হতে পারে রুচি কমে যেতে পারে শরীর ফেটিক লাগতে পারে বা দুর্বল লাগতে পারে হাত-পা জ্বালাপোড়া করতে পারে হাত পা অবশ হয়ে যেতে পারে। এগুলোর জন্য এই সাধারণ সমস্যাগুলোর জন্য কিছু কিছু ঔষধ আছে সে ওষুধগুলো খেলে এগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকতে পারে।
আরেকটি ব্যাপার অবশ্যই জানাবেন কেমোথেরাপি দেয়ার পরে কিছু সাইড ইফেক্ট থাকার অর্থ হচ্ছে ওই ওষুধে আপনার শরীরে কাজ হচ্ছে সুতরাং এই সাইডএফেক্ট গুলোকে মনে করবেন না যে আপনার ক্যান্সার বা আপনার রোগ খারাপের দিকে যাচ্ছে আসলে সাইড ইফেক্ট গুলো আপনি সহ্য করতে পারেন সঠিকভাবে চিকিৎসার যথাযথ সময়ে শেষ করেন আপনি এর মাধ্যমেই পরবর্তীতে ভালো কিছু আশা করতে পারেন তো আসুন আমরা নিজে সচেতন হই পরিবার এবং সমাজকে সচেতন করি আমরা অযথা কেমোথেরাপিকে ভয় না পাই এবং আমার আপনার সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দূর হোক ক্যান্সার চিকিৎসার সকল অন্তরায়।
টিআই
-
১৮ ঘন্টা আগে
-
২৫ অগাস্ট, ২০২৫
-
৩০ জুন, ২০২৫
-
১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
-
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
-
০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫