১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১১:১৭ এএম
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিবস আজ

চিকিৎসা ব্যয়ে বছরে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৮৬ লাখের বেশি, ওষুধে খরচ ৬৪.৬%

চিকিৎসা ব্যয়ে বছরে দারিদ্র্যসীমার নিচে ৮৬ লাখের বেশি, ওষুধে খরচ ৬৪.৬%
ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে এখনো নিশ্চিত হয়নি মানসম্মত সেবা। ১৯৯৭ সাল থেকে মোট স্বাস্থ্যব্যয়ে সরকারের ভাগ ক্রমান্বয়ে ছোট হচ্ছে। এতে হিমশিম খাচ্ছেন রোগীরা। ২০১২ সালে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট কৌশলপত্র তৈরির সময় ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় ছিল ৬৪ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে যা ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়। কিন্তু তারপর থেকে এটি না কমে বরং বেড়েছে।

অথচ সব মানুষের জন্য বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে গুণগত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই ‘সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মূলনীতি’। কিন্তু এ ইউনিভার্সাল হেলথ কাভারেজ (ইউএইচসি) অর্জনে দৃশ্যত অগ্রগতি নেই। ২০১৫ সালে ব্যক্তির চিকিৎসাব্যয় ৬৪ থেকে বেড়ে ৬৭ শতাংশ হয়। ২০২০ সালে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের সর্বশেষ গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যক্তির স্বাস্থ্য খাতের মোট ব্যয় বর্তমানে ৭২ দশমিক ৭০ শতাংশে পৌঁছেছে।

এ পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) দেশে পালিত হচ্ছে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা দিবস, ২০২৪। এ বছর দিবসের প্রতিপাদ্য হয়েছে—‘স্বাস্থ্য: এটি পরিবারের নাকি সরকারের দায়িত্ব’।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের প্রকাশিত গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২০ সালে চিকিৎসাব্যয়ে সরকারের অংশ ছিল যথাক্রমে মোট ব্যয়ের ২৮, ২৬ ও ২৩ শতাংশ। আর ওই বছরগুলোতে ব্যক্তির নিজস্ব ব্যয় ছিল ৬৪, ৬৬ ও ৬৯ শতাংশ। এ ব্যয় করতে গিয়ে বছরে ৮৬ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হচ্ছে ওষুধ কিনতে। এতে ব্যয় ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ। 

এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৯৭ সাল থেকে স্বাস্থ্য ব্যয়ে সরকারের মাথাপিছু বরাদ্দ বাড়েনি, বরং কমেছে। সরকার ২০১২ সালে চিকিৎসায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেয়। ওই বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা অর্জনের কৌশলপত্র প্রণয়ন করে। সেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে চিকিৎসা ব্যয়ের ৬৮ শতাংশ সরকারি বরাদ্দ এবং বাকি ৩২ শতাংশ রোগী দেবেন—এমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়। এরপর এক যুগের বেশি সময় পার হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। উল্টো ২০১৫ সালে ব্যক্তির চিকিৎসা ব্যয় ৬৪ থেকে বেড়ে ৬৭ শতাংশ হয়।

২০২০ সালে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণায় দেখা গেছে, একজন ব্যক্তি স্বাস্থ্য খাতে মোট ব্যয়ের ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ নিজেই বহন করেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গত জুলাইয়ে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জনপ্রতি ১০০ টাকা চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে রোগীকে ৭৩ শতাংশ বহন করতে হয়। এর মধ্যে ৫৪ দশমিক ৪০ শতাংশ ওষুধে, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ২৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। চিকিৎসকের পেছনে ব্যয় ১০ দশমিক ৩১ এবং যাতায়াতে ব্যয় করতে হয় ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

এ ছাড়া সংবিধানে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও চিকিৎসক ফি, রোগ নির্ণয় ও ওষুধ কিনতে রোগীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ব্যক্তিকেই চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৩ শতাংশ বহন করতে হয়। সরকারি গবেষণাতে দেখা যাচ্ছে, নাগরিকের মাথাপিছু সরকারি বরাদ্দ কমেছে। স্বাস্থ্য ব্যয় বহন করতে গিয়ে বছরে ৮৬ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ব্যয় ওষুধে, ৫৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।

এ ছাড়া রোগ শনাক্তে ২৭ দশমিক ৫২ এবং চিকিৎসকের পেছনে খরচ ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ। বিশ্বের অন্যান্য দেশে জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ থাকে, বাংলাদেশে তা এক শতাংশেরও কম। বিশ্বব্যাংকের সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা সূচকে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। ১০০ স্কোরে বাংলাদেশের অবস্থান ৫১। এ তালিকায় নেপালের স্কোর ৫৩, ভারতের ৬১, ভুটানের ৬২, শ্রীলঙ্কার ৬৭ ও মালদ্বীপের ৬৯। অন্যদিকে ৪৫ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের নিচে রয়েছে পাকিস্তান।

এসআই/এমইউ 

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
করোনা ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা

এক দিনে চিরবিদায় পাঁচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক