থাইল্যান্ড নেওয়া হলো জুলাই অভ্যুত্থানে আহত বাবুকে
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এবার উন্নত চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডের ভেজথানি হাসপাতালে পাঠানো হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ মো. বাবুকে (৩৬)। রাজধানীর শনির আখড়ায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার চার মাসেও কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে দেশের বাইরে পাঠানো হলো। বোন সুবর্ণা তার সঙ্গে গিয়েছেন।
শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইট। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর তাকে বিদায় জানান।
বিমানবন্দরে স্বাস্থের মহাপরিচালক বলেন, আহতদের চিকিৎসায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। দেশে যাদের চিকিৎসা সম্ভব হচ্ছে না, তাদের দেশের বাইরে পাঠানো হচ্ছে। এমন আরও কয়েকজন এ তালিকায় রয়েছেন।
এ সময় আহত বাবুর মা গণমাধ্যমকে বলেন, ২০ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বাবুর চিকিৎসা পরিবারের খরচেই হয়েছে। সে সময়ে তার চিকিৎসায় সংসারের সব অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে। এরপর আর আমাদের কাছে কিছু ছিল না। ঋণ করেও খরচ দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, তবে ১৭ আগস্ট থেকে নভেম্বরের এই পর্যন্ত সব খরচ সরকার বহন করেছে। একটি ওষুধও আমাদের কিনতে হয়নি।
ছেলের জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, সে সুস্থ হয়ে আসুক। দেশের জন্য যে যুদ্ধটা করেছে, সরকারের কাছে আবেদন থাকবে, দেশে এসে যেন একটা কিছু করে খেতে পারে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, যাত্রাবাড়ির শনির আখড়ার বাসিন্দা মো. বাবু মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি নয়াপল্টনের একটি ছাপাখানায় কাজ করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ে বন্ধ হয়ে যায় ছাপাখানা। কিন্তু বাসায় বসে থাকতে পারেননি বাবু। জড়িয়ে পড়েন স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে। শনির আখড়ায় বাসা হওয়ায় সেখানে প্রতিদিন আন্দোলনে যেতেন।
২০ জুলাই সকালের দিকে আন্দোলনে যোগদান করেন বাবু। এ সময় প্রধান সড়কে এলে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করা হয় বাবুকে। কিন্তু সাথে সাথে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যায়নি বাবুর। পুলিশ তাকে ঘিরে ধরে রাখে। এদিকে তাকে উদ্ধার করতে এলে উল্টো বোনকে আটক করা হয়। আটক করা হয় তার আরও চার বন্ধুকে। ৫-৬ ঘণ্টা পর বোনের জামাই এসে বাবুকে স্থানীয় একটি মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তাকে চিকিৎসা দিতে রাজি হননি। এদিন চিকিৎসকদের পায়েও ধরেন মুক্তিযোদ্ধা মুজিবুর রহমান। একইদিন ধারদেনা করে চার হাজার টাকায় মেয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন তিনি। তবে বাবুর বন্ধুদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসায় গঠিত টিমের সদস্য চিকিৎসক ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির হিমু গণমাধ্যমকে জানান, বাবুর পেটের নিচের অংশ দিয়ে ঢুকে কোমরের পেছন দিয়ে বের হওয়ার সময় বুলেট ছিন্নভিন্ন করে যায় তার খাদ্যনালি, মূত্রথলি আর কোমরের হাড়। চিকিৎসকরা তার পেটে দুইবার অপারেশন করেছেন। তার খাদ্যনালির অনেকাংশ কেটে ফেলতে হয়। বাকি অংশ পেটে ফুটো করে আলাদা করে মলত্যাগের রাস্তা বানানো হয়। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি হয় না। পরে সেপ্টেম্বর মাসে তাকে বিএমএমইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। কিছুদিন পর অবস্থা আরও খারাপ হয় বাবুর। মেডিকেল বোর্ড সিদ্ধান্ত নেয় দেশের বাইরে পাঠানোর। ১৫ দিন আগে থাইল্যান্ডের চিকিৎসক এসে বাবুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। পরে তারা তাকে থাইল্যান্ডে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেন।
মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে জানানো হলে তিনি দ্রুত বাবুকে থাইল্যান্ডে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
এনএআর/
-
২৫ অগাস্ট, ২০২৫
ট্রাইব্যুনালে চিকিৎসকের জবানবন্দি
অভ্যুত্থানে এক চোখ অন্ধ হয়েছে ৪৯৩ জনের, ১১ জন হারিয়েছেন দুই চোখ
-
২২ অগাস্ট, ২০২৫
-
০৯ অগাস্ট, ২০২৫
-
১৮ জুলাই, ২০২৫
-
০২ জুন, ২০২৫
গণঅভ্যুত্থানে হামলা-ভাঙচুর-হত্যাচেষ্টা
চাকরি হারাচ্ছেন বিএমইউর চিকিৎসকসহ ৩৪ কর্মকর্তা-কর্মচারী