ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীদের আমরণ অনশন স্থগিত
মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বৈঠকের আশ্বাস দিলেও রোববার থেকে আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে দুই দিনের জন্য ‘আমরণ অনশন’ স্থগিত করেছে সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) অধিদপ্তরের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে দুই দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, রোববার বৈঠকে বসার আশ্বাস দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তবে একইদিন আবারও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন তারা।
বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি দ্রুত বাস্তবায়ন ও সকল সরকারি হাসপাতালে প্রথম শ্রেণির পদে নিয়োগের দাবিতে মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অবরোধ করে বুধবার থেকে আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধের কারণে প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আন্দোলন স্থগিত করার বিষয়ে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা জানান, সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী পরিষদের আমরণ অনশন শুক্র ও শনিবার দুইদিন বিরতি দেওয়া হয়েছে। রোববার আবারো সারাদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অবস্থান করবেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থী পরিষদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেন। তিনি রোববার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফরের উপস্থিতিতে সভার আশ্বাস দেন।
সভা থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ কর হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম কবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, সেটির সিদ্ধান্তও তারা জানাবেন।
এর আগে, বুধবার সকাল থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঘেরাও করে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘তারা না বুঝেই এখানে এসে আন্দোলন করছে। তাদের যে দাবি, সেটা পূরণের জন্য যেতে হবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে। আমাদের এখানে যে দাবিটা ছিল খালি পদের জন্য। সেটা নিয়ে আমরা কথা বলছি।’
অপরদিকে শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে জানান, সরকার ১৯৭৩ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের অধীনে পাঁচ বছরের ফিজিওথেরাপি কোর্স চালু করলেও তাদের জন্য কোনো ধরনের ‘ক্যারিয়ার প্ল্যান’ করা হয়নি। ২০০৯ সালে স্বতন্ত্র কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে ঢাকার মহাখালীতে জায়গা নির্ধারণ করা হয়। তার ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে ওই উদ্যোগ আটকে যায়।
তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে বিএসসি উত্তীর্ণ ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য সরাসরি কোনো পদ নেই। ফলে নিয়োগের কোনো সুযোগও নেই। এসব সংকট নিরসনের দাবিতেই তাদের আন্দোলন।
এনএআর/