২১ নভেম্বর, ২০২৪ ০৫:০৩ পিএম

আন্দোলনে আহতদের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা: স্বাস্থ্য বিশেষ সহকারী

আন্দোলনে আহতদের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা: স্বাস্থ্য বিশেষ সহকারী
শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসা এবং বিপ্লবে শহীদ পরিবার ও হতাহতদের পুনর্বাসন নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ের বক্তারা। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে আহতরা সরকারি হাসপাতালে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।

আজ (২১ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আহত ছাত্র-জনতার চিকিৎসা এবং বিপ্লবে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের পুনর্বাসন বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা নিয়ে অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী বলেন, আপনারা আগের দিনেও শুনেছেন বাংলাদেশে বৈষমবিরোধী আন্দোলনে যারা আহত হয়েছেন, তাদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ফাস্ট ট্র্যাক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। দেশের সকল হাসপাতালে এই নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সরকারি সমস্ত হাসপাতালে আহতরা সকল ধরনের চিকিৎসা আজীবন বিনামূল্যে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের চিকিৎসায় বিএসএমএমইউর কেবিন ব্লক মাল্টি ডিসিপ্লিনারি হাসপাতাল হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। আহতদের যারা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন, তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিএসএসএমইউর কেবিন ব্লকে যোগাযোগের অনুরোধ করা হচ্ছে।

অধ্যাপক সায়েদুর রহমান জানান, বিএসএমএমইউর স্পেশালাইজড হাসপাতালের নিচেরতলাটি সম্পূর্ণ ডেডিকেটেড করা হয়েছে আহতদের বহির্বিভাগের সেবার জন্য। পর্যায়ক্রমে সেখানে ফিজিওথেরাপি সেবা যুক্ত হবে। এ ছাড়া সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে রোবটিক্স ফিজিওথেরাপির জন্য। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রপাতি বিএসএমএমইউ বা অন্য যেখানে সুবিধা হয়, স্থাপন করা হবে। এই সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনে প্রাথমিক পর্যায়ে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল আনা হবে।

আহতদের সেবা নিশ্চিতে দেশের সকল সাধারণ ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোকে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আহতদের জন্য বিভাগীয় হাসপাতাল এবং বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে ডেডিকেটেড বেড থাকবে এবং আহতরা ড্যাশবোর্ডে সহজেই দেখতে পারবেন, কোথায় কোন সেবাটা পাওয়া যাবে। যারা চোখেও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আনা হচ্ছে। প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী বিদেশে সুনির্দিষ্ট হাসপাতালে আহতদের পাঠানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে বিদেশ পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আন্দোলনে আহতদের মানসিক ট্রমা বা আঘাতের বিষয়ে চিকিৎসার জন্য ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথে একটি কেন্দ্রীয় স্থাপনা প্রস্তুত করা হবে এবং এ সম্বন্ধে দেশের সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে অভিজ্ঞদের এই নেটওয়ার্কের আওতায় যুক্ত করা হবে। সেখানে টেলি মেডিসিনের মাধ্যমে স্ক্রিনিং হবে এবং ইন পার্সন আহতদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে সেবা দেওয়া হবে।

আহতদের বিদেশে পাঠানো নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী বলেন, ‘এটা নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি আছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্ট করতে চাই, যাদের উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন, রোগী এয়ার এম্বুলেন্সের মাধ্যমে শিফ্‌ট করা হয়েছে। আজকেও একজন যাবেন। গতকালও একজন গিয়েছেন। যখনই যার প্রয়োজন সেই রোগীদেরকে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ার সাথে সাথে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে সেই হাসপাতাল থেকে সুপারিশের ভিত্তিতে একটি বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে তাদেরকে বিদেশে হাসপাতালে পাঠানোর সব রকম ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেন, ‘ছাত্র-শ্রমিক-জনতার জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের তালিকা প্রনয়ণের লক্ষ্যে চলমান কাজের গতি বাড়ানো হবে। যথাযথ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় দ্রুত নির্ভুল ও সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করার কাজ চলছে। আমরা চাই আহতদের এই তালিকাটা আজকে নয়, বিশ বছর পরে হলেও যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়। সেজন্য সময় নিয়ে হলেও বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে আমরা ভেরিফিকেশন করছি। নভেম্বরের ভেতর চেষ্টা করবো শহীদ পরিবারের তথ্যের ভেরিফিকেশন শেষ করতে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শহীদ এবং আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমাদের থাকবে।’

জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ বলেন, ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে আহতদের শ্রেণীকরণের উপর ভিত্তি করে প্রাথমিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের সর্বোচ্চসীমা এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেকেই চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ করে ফেলেছেন।  সেই চিকিৎসার টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য একটি উদ্যোগ জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে নেওয়া হয়েছে। অবশ্যই এ টাকা তিন লাখ টাকার সাথে জড়িত নয়। এটি সম্পূর্ণ আলাদা। যার যত টাকা খরচ হয়েছে, ডকুমেন্টসসহ আমাদের সেলে জমা দিলে যথাযথ ভেরিফিকেশন করে আহতদের টাকা ফেরত দিব।’

গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা খন্দকার জহিরুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, আহতদের পুনর্বাসনের একটা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা সরকার থেকে করা হবে। জুলাইয়ের আন্দোলনে অনেকে আহত হয়েছেন, যারা শারীরিকভাবে এতটা ক্ষতিগ্রস্ত যে, কর্মজীবনে ফেরার পথ ব্যাহত হতে পারে। এজন্য সরকার কিছু অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবে, যাতে আহতদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যায়। যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবার এবং যারা আহত হয়ে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা সরকারের আছে।

এমইউ/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
অনুপস্থিতি ও বেসরকারি হাসপাতালে মালিকানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

অনুপস্থিতি ও বেসরকারি হাসপাতালে মালিকানা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত