এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স: নিয়ন্ত্রণে জোর নজরদারির আহ্বান
মেডিভয়েস রিপোর্ট: এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ অসুস্থতা ভাল হবে না। এ কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বে এক কোটি মানুষ মারা যাবে। আসন্ন বিপদ সামাল দিতে এখনই এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার পর্যবেক্ষণে জোর দিতে হবে।
এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে সোমবার (১৮ নভেম্বর) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আয়োজিত বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতি সোমবার ক্লিনিক্যাল মিটিং আয়োজিত হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮-২৪ নভেম্বরের এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে রামেকহার কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ বৈজ্ঞানিক সেমিনার।
রামেক হাসপাতালে প্রতি সোমবার ক্লিনিক্যাল মিটিংয়ের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রতিষ্ঠানের মাইক্রোবাইলজি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। এতে উঠে আসে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য।
প্রশ্নোত্তর পর্বে জীবনঘনিষ্ঠ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্টরা। এতে বলা হয়, এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হাসপাতাল বা চিকিৎসকের বাইরে গ্রাম-গঞ্জে কোয়াকদের ইচ্ছামত এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার। এটা দেখার কেউ নেই। এর সঙ্গে রয়েছে ওষুধ কোম্পানির অসুস্থ প্রতিযোগিতা। তারা হাতুড়ে ডাক্তার বা নন-গ্রাজুয়েট চিকিৎসকদের প্রলুব্ধ করে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এন্টিবায়োটিক প্রেস্ক্রিপশনের ক্ষমতা আইনগতভাবে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড চিকিৎসককে প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও রেজিস্টার্ড চিকিৎসক নন, এমন অনেকেই হরহামেশাই এন্টিবায়োটিক লিখছেন। সেসব জায়গায় অনেক ক্ষেত্রে সঠিক এবং আধুনিক গাইডলাইন মানা হচ্ছে না। এ কারণে বাড়ছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স।
সেমিনারে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ব্যাপক আকার ধারণ করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা। বলেন, ‘এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সে অদূর ভবিষ্যতে এক কোটি মানুষ মারা যাবে। সামান্য অসুখও ভাল হবে না। সুতরাং এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করতে হবে শক্তভাবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনের নজরদারি এবং আইন অমান্যকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। দেশের মানুষ হয়তো বুঝতেই পারছে না অথবা বুঝতে চাইছে না যে, আমরা স্বাস্থ্যগতভাবে গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। এটা এখনই থামানো না গেলে বিপদ আসন্ন।’
এ ছাড়া সাধারণ মানুষকে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বিষয়ে জানার এবং সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। অনুষ্ঠানে স্কুল-কলেজের পাঠ্য ক্রমেও এই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং রেজিস্ট্যান্সের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। এ সময় সকল প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধকল্পে প্রচার ও প্রসারে এগিয়ে আসার আহ্বান।