শজিমেকে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ইচিপের অনুমোদনে ইন্টার্ন ডক্টরদের কমিটি, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা
মেডিভয়েস রিপোর্ট: বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে (শজিমেক) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ (ইচিপ) নেতাদের অনুমোদনে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে স্থান পাওয়া চিকিৎসকদের অনেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ দেশের বড় বড় মেডিকেলের অনুসরণে নির্বাচনের মাধ্যমে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের (ইচিপ) সভাপতি ডা. মো. তৌফিক হাসান নিশাত ও সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ইলিয়াস হোসেনের অনুমোদনে গঠিত ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. শুভ খন্দকার এবং সদস্য সচিব ডা. সিনথিয়া আফরিন মুনা।
কমিটিতে যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে তিনজন দায়িত্ব পেয়েছেন। তারা হলেন—ডা. আল শাহরিয়ার খান, ডা. সালমান শাহরিয়ার ও ডা. রাফিয়া জান্নাত।
কমিটির সাত সদস্য হলেন—ডা. আরাফাত রহমান, ডা. তাসনীম নওরিন হক, ডা. শাহরিয়ার কবির সিয়াম, ডা. আবু সুফিয়ান, ডা. মোস্তাকিমা খাতুন, ডা. জগন্নাথ বিশ্বাস ও ডা. নাঈমুর রহমান।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, ৫ আগস্টের আগে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক নেতাকর্মী পূর্বের অবস্থান পরিবর্তন করে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে ক্যাম্পাসে তৎপরতা চালাচ্ছে। মূলত তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এর মধ্যে সন্ধানী করা ডা. শুভ খন্দকার ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ড. সিনথিয়া আফরিন মুনার বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়ার অনেক অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী মেডিভয়েসকে বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার সফল অভ্যত্থানের পর ঢাকা মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের যে কমিটি হয়েছে, সেটা ভোটের মাধ্যমে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই পদ্ধতিতে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন। তাহলে যারা ছাত্রলীগের পোস্টেড নেতা, তাদের স্বাক্ষরে কীভাবে একটি কমিটি অনুমোদন পায়? ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ২৪ এর স্বাধীনতার শক্তি বলতে পারি আমরা? আমাদের প্রশ্নের জায়গাটা এ রকম।’
আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবের বক্তব্য
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন আহ্বায়ক ডা. শুভ খন্দকার বলেন, স্বৈরাচার সরকারের সময় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে গেলে সবাইকে বাধ্য হয়েই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হতো। না হলে দুই বছর পর্যন্ত ছাত্রাবাসে জায়গা হতো না। সে হিসেবে প্রায় সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ইচিপ নেতাদের অনুমোদনে নতুন কমিটি গঠনের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর ইচিপ বহাল তবিয়তেই ছিল। এ ব্যাপারে কেউ কোনো বাধ সাধেনি। এ ছাড়া আমাদের ইন্টার্ন ইনডাকশন, ডিসেকশন সবই আটকে ছিল। এ অবস্থায় পরিচালক স্যারের কাছে গেলে তিনি বলেন, তোমরা উপযুক্ত প্রতিনিধি নিয়ে আসো। না হলে বুঝতে পারছি না, কীভাবে প্রোগ্রাম করবো? ফলে আমরা চাচ্ছিলাম কমিটিটা হোক। তাই আমরা ভাবলাম, যেহেতু পেশাজীবী একটি সংগঠন আছে, তাদের স্বাক্ষরে দায়িত্বটা যেন হস্তান্তর হয়ে যায়।’
শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, সেই কমিটি নির্বাচনের মাধ্যমেই হতে পারে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আলোচনা হতে পারে। কারণ এটা একটি যৌক্তিক দাবি।’
সদস্য সচিব ডা. সিনথিয়া আফরিন মুনা বলেন, যেহেতু দুই ভাই আগের কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, সে হিসেবে তাদের স্বাক্ষর রয়েছে। অর্থাৎ ডাক্তারদের কমিটি ডাক্তারদের স্বাক্ষরে হলো।
কিন্তু সেই ডাক্তারদেরকে স্বৈরাচারের দোসর বলে অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা বলেছেন তাদের স্বাক্ষরে গঠিত কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নেই। তারা আরও বলেছেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন মেডিকেলে নির্বাচনের মাধ্যমে ইন্টার্নদের নেতৃত্ব গড়ে উঠছে। শজিমেকে এটা অনুসরণ করা হলে অসুবিধা কোথায়?
এমন প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, নতুন কমিটির গ্রহণযোগ্যতা বিষয়ে আমাদের পেজেও কথা উঠেছে। আর নির্বাচনের কথা তো আমরাও তুলেছি, কিন্তু কেন নির্বাচনের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না, জানি না।’
তবে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের এই সদস্য সচিব।
যা বললেন শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক
জানতে চাইলে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রি. জে. জুলফিকার আলম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ইন্টার্ন ডক্টরদের কমিটি গঠিত হওয়ার সঙ্গে আমার সম্পর্ক নেই। তাদের কমিটি গঠনে আমার অনুমোদনের দরকারও নেই। ওদের কোনো একটি অনুষ্ঠান বা কোনো আয়োজনে সহযোগিতা লাগবে কিনা, বা কোনো প্রয়োজনে কে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করবে, এটা মূল কথা। এজন্য একজন প্রতিনিধি নিয়ে আসতে বলেছিলাম। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।’
এমইউ/