৩০ অক্টোবর, ২০২৪ ০৬:২৬ পিএম

এইচপিভি টিকার সাথে বন্ধ্যত্বের সম্পর্ক নেই: স্বাস্থ্য মহাপরিচালক

এইচপিভি টিকার সাথে বন্ধ্যত্বের সম্পর্ক নেই: স্বাস্থ্য মহাপরিচালক
বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: এইচপিভি টিকার সাথে বন্ধ্যাত্বের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর। এ ছাড়া টিকা কার্যক্রমের সাথে ধর্মীয় অনুশাসনের কোনো নেতিবাচক সম্পর্ক নেই বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কর্তৃক আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন।

দুপুর দেড়টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কনফারেন্স রুমে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে চলমান এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৪ নিয়ে এই প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। প্রেস ব্রিফিংয়ে এই ধরনের গুজব এবং প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতনভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) একটি কেন্দ্রে টিকা প্রদান কার্যক্রম চলাকালে টিকা নেওয়ার পর দুজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের অসুস্থ হওয়া দেখে পরবর্তীতে আরো কয়েকজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে এদের সবাই সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। তবে, পাঁচজন ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি হলেও কোন টিকা নেননি। প্রাথমিকভাবে রোগটি ‘ম্যাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া এই ঘটনা তদন্তে কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত যে কোন টিকা দেওয়ার পর খুবই নগণ্য পরিমাণ টিকাগ্রহনকারীর শরীরে সাময়িক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তখন টিকা গ্রহণকারী শুয়ে বিশ্রাম নিলে অল্প সময়ের ভেতর ভালো বোধ করে। এই বছর এইচপিভি টিকাদানের টার্গেট ৬২ লক্ষ ১২ হাজার ৫৩২ জন। গত ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১৮ লক্ষ ১৭ হাজার ৩২৬ জনকে টিকা প্রদান সম্পন্ন হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ৩১ শতাংশ। অদ্যাবদি, সাতটি বিভাগে মাত্র ২৭১ জনের শরীরে জ্বর ও ব্যথা বা এই ধরনের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। যেটা সংখ্যার বিচারে খুবই নগণ্য, মাত্র ০.০০০১৪ শতাংশ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, বাংলাদেশে এই টিকাদান কর্মসূচিতে এইচপিভি টিকা কেয়ারভিক্স বেলজিয়ামে উৎপাদিত হয়। সারা পৃথিবীতে ১৪০টি দেশে এই টিকা ব্যবহৃত হচ্ছে, যার মধ্যে সৌদি আরব, কাতার ও মালয়েশিয়াসহ ১৪টি মুসলিম দেশ অন্তর্ভুক্ত।

এতে আরও জানানো হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মা, নবজাতক, শিশু ও কিশোর স্বাস্থ্য (এমএনসিএএইচ) অপারেশনাল প্ল্যানের অন্যতম সফল কার্যক্রম ইপিআইয়ের মাধ্যমে নারীদের জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে প্রথম পর্যায়ে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৩ সে বছরের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঢাকা বিভাগের ১৩টি জেলা ও চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, অবশিষ্ট সাতটি বিভাগ ও আটটি সিটি করপোরেশন এলাকায় বসবাসরত ১০-১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের মাঝে অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ এইচপিভি টিকা প্রদানের লক্ষ্যে এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৪ কার্যক্রম ২৪ অক্টোবর শুরু হয়েছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ ওসমানী, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ড. মো. রিজওয়ানুর রহমান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম আবু হানিফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এনএআর/

মেডিভয়েসের জনপ্রিয় ভিডিও কন্টেন্টগুলো দেখতে সাবস্ক্রাইব করুন MedivoiceBD ইউটিউব চ্যানেল। আপনার মতামত/লেখা পাঠান [email protected] এ।
  ঘটনা প্রবাহ : জরায়ুমুখ ক্যান্সার সচেতনতা মাস
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত