‘ট্রমায় আক্রান্ত কমাতে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নজর দিতে হবে’
মেডিভয়েস রিপোর্ট: ট্রমায় আক্রান্তদের হার কমাতে সড়কসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মনোযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এ ক্ষেত্রে সড়ক সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা নিশ্চিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ট্রমা সেন্টার খোলারও পরামর্শ দেন তারা।
বিশ্ব ট্রমা দিবসে আজ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ঢাকা মেডিকেলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জন্সের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জন্সের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. জাহিদ রায়হান বলেন, শুধু ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার না করে ঢাকার টারশিয়ারি সকল হাসপাতালে ট্রমার পরিপূর্ণ চিকিৎসা দেওয়া হলে এসব রোগীদের চিকিৎসা সংকট কেটে যাবে।
তবে অনেক ট্রমা সেন্টার খোলার ধারণার সঙ্গে খানিকটা ভিন্নমত পোষণ করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুল আলম। তিনি বলেন, ঢামেক থেকে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার পর সেখানে চিকিৎসা না পেয়ে আবারও ঢামেকে ফিরে এসেছেন বহু রোগী। এতে তার ভয়াবহ অবনতি ঘটে। তা ছাড়া সকল হাসপাতালে প্রশিক্ষক না থাকায় প্রশিক্ষণও কার্যকর হয় না। এ ক্ষেত্রে সমন্বিত ট্রমা সেন্টার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অধ্যাপক কামরুল আলম বলেন, যথাযথ উপায়ে ট্রমায় আক্রান্তদের রোগের মাত্রা নির্ণয়ের পর চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে তোলার মধ্যে সীমাহীন প্রশান্তি রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেন, চিকিৎসা নিশ্চিতের পাশাপাশি ট্রমা রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনতে দুর্ঘটনা কমাতে হবে। প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার না করে চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান খুঁজলে হবে না। কারণ এ দিকটি অবহেলিত থাকায় রোগীর সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে, কিন্তু হাসপাতাল বা চিকিৎসক সেই হারে বাড়ছে না। ফলে চিকিৎসা পেতে গিয়ে রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
এ অবস্থায় সড়ক সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বলেন, প্রতিরোধ প্রক্রিয়ায় প্রচুর ব্যয় হলেও এর কল্যাণে দুর্ঘটনা কমানো যাবে। এতে শেষ পর্যন্ত আহতদের চিকিৎসা ব্যয় কমবে, যা সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের সাশ্রয়েরই কারণ হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নিহত, আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করা রোগীর সংখ্যা কমানো যাবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউরোসার্জন্সের আহ্বায়ক বিএসএমএমইউর নিউরোসার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক বলেন, রাস্তা অতিক্রম করতে জেব্রা ক্রসিং অনুসরণ করা হয় না। ফলে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
দুর্ঘটনার জন্য অসচেতনতা অনেকাংশে দায়ী বলে মনে করেন তিনি। জানান, পাঠ্যসূচিতে এ রকম জরুরি বিষয় স্থান পায়নি। সেখানে ডিম ভাজাসহ নানা হাস্যকর বিষয় সংযোজন করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে মানুষকে এ ব্যাপারে সম্মক ধারণা দিতে হবে।
কথায় কথায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেন অধ্যাপক ডা. মওদুদুল হক। তিনি বলেন, মৃত্যু অনিবার্য রোগী মারা গেলেও চিকিৎসকের ওপর হামলা করা হয়। এট আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।
কর্মস্থলে চিকিৎসকদের ওপর হামলা বন্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে এই নিউরোসার্জন বলেন, এজন্য চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা আইন প্রণয়ন জরুরি।
এমইউ/
-
১৭ অক্টোবর, ২০২৪
-
১৭ অক্টোবর, ২০২২
-
১৭ অক্টোবর, ২০২০